হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাইবান্ধায় বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘর, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক পরিবার

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা

ঝড়ে উড়ে গেছে ঘর, আশ্রয়হীন পরিবার। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও গাছপালা। ঝড়ে ভেঙে ও হেলে পড়েছে বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। এতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় লক্ষাধিক পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল বারী। তিনি জানান, রোববার গভীর রাতে হওয়া ঝড়ে হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং চারটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং বহু বৈদ্যুতিক মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর জন্য ৪৫ জন কর্মী কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরশহরের মীরগঞ্জ, দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ ধুমাইটারি, হুড়াভায়া, গোপালচরণসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপড়ে পড়ে বড় বড় গাছ, বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

মীরগঞ্জ বাজারের একটি বিশাল বটগাছ হেলে পড়ে কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও কয়েকটি শ্রেণিকক্ষও ক্ষতির মুখে পড়ে। ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার পাকা ধানখেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার বলেন, “আমার ইউনিয়নের অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ থেকে সাতটি পরিবারের বাড়িঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।”

রোববার রাতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে হেলে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই রাতে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিচন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ে তিন শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, গাছপালা ও ফসল। গাছচাপায় মারা গেছে দুটি ছাগল।

এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, দক্ষিণ হরিচন্ডি গ্রামে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। তালিকা প্রস্তুত শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রসবের পর রক্তক্ষরণ, চর পেরিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই থামল ইউপি সদস্যের জীবন

করতোয়া নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধায় ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের চেষ্টা, ৬ জনকে পুলিশে সোপর্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস, যুবককে পুলিশে দিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোচালক নিহত, আহত ৮

পলাশবাড়ীতে পানহাটির আধিপত্য নিয়ে বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ

গাইবান্ধায় রেলওয়ের জমির শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মাদক প্রতিহত করতে গিয়ে উল্টো মামলার আসামি শিক্ষার্থীরা, প্রতিবাদে স্থানীয়দের মানববন্ধন

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন, পরে মৃত্যু