জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ফাহিম আল হাসানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৬ মার্চ তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদুজ্জামান ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও রিমান্ড শুনানির জন্য ২৪ মার্চ দিন ধার্য করেন।
আদালতের আশুলিয়া থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ দুদিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শারমিন হত্যার ঘটনায় নিহতের চাচা মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ মার্চ আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিহত শারমিন জাহান খাদিজা জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকার একটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। গত বছরের জুন মাসে তারা পরিবারের অগোচরে বিয়ে করে। এরপর থেকে তাঁরা জাবির পেছনের এলাকা ইসলামনগরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকনে। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল।
গত ১৫ মার্চ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো এক সময়ে ফাহিম অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শারমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে ও মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলামনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।