রাজধানীর হাজারীবাগ ও লালবাগ থেকে গৃহবধূসহ দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে হাজারীবাগের সোনাগড় এলাকার একটি বাসা থেকে গৃহবধূ লামিয়া আক্তারের (১৯) এবং লালবাগ থেকে আইয়ুব আলীর (৩৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। এরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাজারীবাগের সোনাগড় এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দেয় গৃহবধূ লামিয়া আক্তার। পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক আজ সকাল পৌনে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লামিয়ার স্বামী মো. আজমান জানান, স্ত্রী লামিয়ার সঙ্গে হাজারীবাগে সোনাগড় এলাকার ৫ তলা ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়া থাকেন। লামিয়া একটি পারলারে কাজ করত। মাঝে মাঝে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের ঝগড়া হতো। গত রাতেও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে লামিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেক ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর দরজা ভেঙে লামিয়াকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে থানা-পুলিশের মাধ্যমে লামিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, লামিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম এমদাদুল হক।
এদিকে গতকাল রাত ১২টার দিকে লালবাগের আতশ খান লেনের একটি বাসা থেকে থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা আইয়ুব আলীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তাহের মোল্লা জানান, আইয়ুব আলী ইডেন মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার সুজাবাদ গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুস সোবহান। লালবাগ আতশ খান লেনের রোকেয়া ভিলা নামে ৫ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার আইয়ুব আলীসহ তিনজন থাকতেন।
তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আইয়ুব আলীর দুই রুমমেট বাসায় দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ পাননি তারা। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন তারা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আইয়ুব আলীকে দেখা যায়। তাকে থানা-পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর আইয়ুব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তবে আইয়ুব আলীর আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।