হোম > সারা দেশ > ঢাকা

যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসকের ধন্যবাদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন চিকিৎসক কামরুল ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর শ্যামলীতে কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন সেবার জন্য পরিচিত ‘মানবিক চিকিৎসক’ অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে যুবদল নেতা পরিচয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশের পর যুবদল জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কেউ নন। এদিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ডা. কামরুল ইসলাম।

আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সংকটকালীন সময়ে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন—এ জন্য তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতেই চিকিৎসক কামরুল ইসলামের সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে ছুটে যান যুবদলের শীর্ষ নেতারা।

হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, মঈন উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি শ্যামলীর চার নম্বর রোডের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দেন। স্থানীয় হওয়ায় তিনি শ্যামলীতে অবস্থিত ডা. কামরুল ইসলামের সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে নিয়মিত আশা-যাওয়া করতেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর মঈন ওই হাসপাতালে খাবার সরবরাহের কাজ নেন। প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও গত মাস থেকে তিনি সরবাহ করা খাবারের দাম বেশি রাখতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পারার পর ডা. কামরুল ইসলাম তাঁকে বাদ দেন এবং নিজে কেনাকাটা তদারকি শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মঈন। তিনি লোকজন নিয়ে ওই হাসপাতালে এসে কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পাশাপাশি ডা. কামরুল ইসলামকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর কয়েকজন কর্মীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালান।

এর অংশ হিসেবে গতকাল মঈন উদ্দিন সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের সামনে ৬০-৭০ জন লোক নিয়ে এসে ডা. কামরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ডা. কামরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী এবং সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘কামরুল স্যার হাসপাতালের রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। যেটার টাকা তিনি নেন না। ৫ আগস্টের পর থেকে যুবদলের শেরেবাংলা নগর থানার সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মঈন নামের একজন হাসপাতালের খাবার সরবরাহ শুরু করেন। গত রোজার ঈদের আগে তিনি ২৫ বস্তা চাল সরবরাহ করেন। যেগুলোতে তিনি ১১ টাকা করে বেশি রাখেন। বিষয়টি ডা. কামরুল জানার পর তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেন এবং নিজেই বাজারে গিয়ে কেনাকাটা তদারকি করতে থাকেন।’

আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, ‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঈন নামের ওই ব্যক্তি হাসপাতালের স্ট্যাফদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন। মারধর ও হত্যার হুমকি দেন। যখন তখন লোকজন নিয়ে এসে হাসপাতালে ঢুকে পড়েন। কিছুদিন আগে তিনি ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা না দেওয়ায় গতকাল হাসপাতালের সামনে লোকজন জড়ো করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁরা কামরুল স্যারকে আওয়ামী লীগের দোসর অ্যাখ্যা দেন। কামরুল স্যারসহ কয়েকজনকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার অনৈতিক দাবি জানান।’

কয়েক মাস আগে মঈনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তখন থানা থেকে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলা হয়। কিন্তু সেটি হয়নি বলেও জানান সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক।

এদিকে ওই হাসাপাতালে চাঁদা দাবি করতে যাওয়ার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গতকাল রাত দেড়টার দিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধিদল সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে গিয়ে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানান, ওই ব্যক্তি যুবদলের কেউ নন। তিনি সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে খান।

এ সময় যুবদলের শীর্ষ নেতারা র‍্যাবের এক কর্মকর্তাকে ফোন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ডা. কামরুল ইসলামকে আশ্বস্ত করেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজ, দখলবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করছি।’

এই ঘটনায় যুবদলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফের রিমান্ডে

সংবাদ প্রকাশের পর উত্তরায় ফুটপাত-রাস্তা দখলমুক্ত, গ্রেপ্তার ৪

সারা দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা করছে র‍্যাব

ঢাকা-৪ আসনের ৭৫ ভাগ গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছে না: এমপি জয়নুল আবেদীন

‘পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা নাই’ ম্যাজিস্ট্রেটের মন্তব্যে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ

অর্থ লুটপাটের অভিযোগে রাকিন সিটি প্রশাসকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

চার দাবি পূরণে ঢাকা মেডিকেল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম

বায়তুল মোকাররম এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ব্যবসায়ী ও হকারদের সংঘর্ষ

জমেনি বৈশাখী কেনাকাটা

ওষুধে টাকা যাচ্ছে, মশা মরছে না