আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে গাছে দোল খাচ্ছে আমের মুকুল। সোনালি মুকুলে ভরে উঠেছে আমবাগানগুলো। তবে আবহাওয়া বিরূপ হলে আমের ফলন কেমন হবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। সেই সঙ্গে বাগান চাষে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। তাই আম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়েও চিন্তিত কৃষকেরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি ও বাগানমালিকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অভিজ্ঞ চাষিদের মতে, মুকুলের এ সময়টিই নির্ধারণ করে পুরো মৌসুমের লাভ-লোকসান। তাই গাছের রোগবালাইসহ পোকা দমনে সেচ, স্প্রে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখতে চাচ্ছেন না তাঁরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টরে আমের চাষ করা হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টন।
হোসেনডাঙ্গা এলাকার উদ্যোক্তা বুলবুল আহম্মেদ বলেন, ‘শীত বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আগাম মুকুল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় বালাই ব্যবস্থাপনা করছি, যাতে ফলন ভালো হয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়।’
শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার আমচাষি মাসুদ বলেন, সময়মতো শীতের বিদায়, কুয়াশাহীন পরিবেশ, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত রোদের কারণে এবার প্রতিটি বাগানেই ভালো মুকুল এসেছে। তিনি বলেন, এখন যদি ঝড়বৃষ্টি কিংবা বড় কোনো রোগবালাই না আসে, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার আশা আছে।
গোমস্তাপুর উপজেলার আম উদ্যোক্তা রুবেল আলী বলেন, ‘মুকুলের এ সময়টাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। তাই দিনরাত সেচ, স্প্রে আর পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আমাদের বড় দুশ্চিন্তা রয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ শিল্প আজ চ্যালেঞ্জের মুখে।’
শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শামীম খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বালাইনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘কৃষকদের বালাইনাশক যত্রতত্র মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার না করে জৈব বালাইনাশক এবং ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ এবং পুষ্টিকর আম উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছি।’