বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আতঙ্কে পালিয়ে আসা কাঠুরিয়াদের কয়েকজন এ তথ্য জানান। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘুমধুমের তুইঙ্গাঝিরি বিওপি এলাকার জিরো লাইনের মিয়ানমার অংশে এ ঘটনা ঘটে।
কাঠুরিয়া সৈয়দ কাশেম ও রোহিঙ্গা নাগরিক করিম বক্স জানান, তাঁরা প্রতিদিনের মতো বাঁশ কাটতে যান সীমান্তের ৩৯ পিলার-সংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে। বাঁশ কাটা শেষের দিকে হঠাৎ গোলাগুলির আওয়াজ পেয়ে অপেক্ষা করেন।
পরে জানতে পারেন, পরপর দুটি মর্টার শেল বিস্ফোরণের কথা। এরপর প্রচণ্ড গোলাগুলি। অন্তত ২০-২৫ রাউন্ড গুলির আওয়াজ শুনে তাঁরা দ্রুত পালিয়ে আসেন।
স্থানীয় একদল গ্রামবাসী জানান, খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল সীমান্তে টহল দিতে দেখা গেছে। গত দুদিন ধরে সীমান্তে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, আরসা ও আরএসওর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। হয়তো এ ঘটনার জেরে গোলাগুলি। তবে তাঁরা এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
গ্রামবাসী আরও জানান, মর্টার শেল এখন মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে। আর একে-৪৭-সহ ভারী অস্ত্র ও আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম রয়েছে অপর বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসা এবং আরএসও বাহিনীর হাতে।
তারা নিয়মিত সীমান্তে মর্টার শেল ব্যবহার করে আসছে। যা এর আগে বাংলাদেশ অংশের তুমব্রু কোনারপাড়া, মধ্যপাড়া, পশ্চিমপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এসে পড়ে। এতে দুজন নিহত আর আহত হন ডজনাধিক।
এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।