‘প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। সঙ্গে সঙ্গেই প্রচুর ধোঁয়া উড়ছিল।’ বৃহস্পতিবার রাতে এভাবেই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সিয়াম শেখ। সিয়াম আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। পাশে এক জায়গায় আমি বসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ টের পাই, সঙ্গে প্রচুর ধোঁয়া। দুটি যানবাহনেরই গতি অনেক বেশি ছিল এবং পুরো মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।’
সিয়াম বলেন, ‘নৌবাহিনীর বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পাশে থাকা কিছু টাইলসমিস্ত্রি দৌড়ে আসেন, আমিও তাঁদের সঙ্গে দৌড়ে যাই। উদ্ধারকাজে অংশ নিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও পরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জনের এবং রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রয়েছে।
নিহতরা হলেন মোংলা উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবাদুর রাজ্জাক, তাঁর ছেলে (বর) সাব্বির, নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, মিতুর নানি আনোয়ারা বেগম, রাজ্জাকের মেয়ে লামিয়া, রাজ্জাকের স্ত্রী আন্জুমারা বেগম, রাজ্জাকের আরেক ছেলের স্ত্রী পুতুল, পুতুলের ছেলে আলিফ, রাজ্জাকের আরেক মেয়ে ঐশি, ঐশির স্বামী সামিউল, ইরান ও মাইক্রোবাসের চালক নাঈম। এ ছাড়া আবদুল্লাহ সানি ও অজ্ঞাতনামা একজন রয়েছেন।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ বলেন, মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ ১৫ জন ছিলেন। আহত আরও একজন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ১৪ জন মারা গেছেন। আর একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখী। পথে বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী টাইলসমিস্ত্রি শাহিন মোল্লা জানান, ‘এত ভয়াবহ দুর্ঘটনা আগে দেখিনি। দুটি গাড়িই দুমড়েমুচড়ে গেছে। কয়েকজন ঘটনাস্থলে মারা গেছে। আর যারা আহত ছিল, তাদের অবস্থাও খুবই গুরুতর।’