বরগুনার পাথরঘাটায় তিন মাসের শিশুসন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মায়ের হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ ছগির হোসেন নামে সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে। ছগির হোসেন সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। এ সময় তাঁর তিন মাসের শিশুসন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওই নারীর বাবা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগির হোসেন মোবাইল ফোনে কল করে জানান, তাঁর মেয়ের বাসা থেকে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ছগিরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর মেয়ে ও এক যুবককে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের সাথে আমাদের জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ চলছে।’ এ সময় ছগির হোসেন সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মো. ছগির হোসেন জানান, নিজলাঠিমারার ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখেন। পরে ওই নারীর বাবাকে ডেকে আনা হলে তিনি মেয়েকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের দাবিতে একপর্যায়ে ওই নারীকে জুতাপেটা করা হয়। সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মামলা বা হয়রানি এড়াতেই এ স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনাটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।