জামালপুরের ইসলামপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ঋতু পরিবর্তনে গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীর চাপ বাড়লেও জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগ বন্ধ রয়েছে। অন্য চিকিৎসকেরা ঈদের ছুটিতে থাকায় রোগীরা সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের ফটকে তালা ঝুলছে। বন্ধ রয়েছে বহির্বিভাগ। কেবল খোলা রাখা হয়েছে জরুরি বিভাগ। এখানে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। চিকিৎসা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। এ ছাড়া ভেতরে আরেকজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন। রোগীরা গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর এলাকা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেদেনা বেগম বলেন, ‘দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। প্রচণ্ড ঠান্ডা-জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি হচ্ছে। কিন্তু রোগীদের ভিড় ঠেলে ডাক্তারের কাছেই যেতে পারছি না।’
পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ এলাকার থেকে আসা হইবর শেখ বলেন, ‘আমার চার বছর বয়সী ছেলে জ্বরে আক্রান্ত। আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। রোগীর ভিড় থাকায় এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি।’
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন জামালপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আজিজুল হক। তিনি জরুরি বিভাগে ঢুকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন।
জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আজিজুল হক বলেন, ‘হাসপাতাল পরিদর্শন করলাম। রোগীদের খোঁজখবর নিলাম। স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সব সময় আমাদের সজাগ থাকতে হয়।’
যোগাযোগ করা হলে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এ এম আবু তাহের মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আজ সরকারি বন্ধ থাকায় চিকিৎসকেরা ছুটিতে রয়েছেন। আমিও ছুটিতে আছি। জরুরি বিভাগ খোলা রয়েছে। সেখানে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
সিভিল সার্জনের হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবু তাহের বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’