তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে যশোরে চালডাল ডটকমের কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আজ সোমবার যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ভেতরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এ বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এ সময় পার্কের বাইরে থেকে কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে চালডাল ডটকমের দুই কর্মী আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দোলনকারীরা জানান, গ্রোসারি শপের পণ্য নিয়ে পার্কটিতে ২০১৯ সালে যাত্রা করে ‘চালডাল ডটকম’ নামে অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টার পরিচালিত হয়। সেখানে আট শতাধিক কর্মী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারে চাকরি করেন।
নিয়মিত অফিস করলেও তিন মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। অধিকাংশ কর্মী যশোর শহরে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করেন। ফলে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের হেনস্তা করা হয়।
আজ বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের কল সেন্টারের মোবাইল নিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এমনকি তাঁদের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
এতে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন এবং পার্কের প্রধান ফটক ভাঙচুর করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ ও পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁদের পাওনা বকেয়া বেতন পরিশোধ না হলে তাঁরা তাঁদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। প্রমি নামের এক নারী কর্মী বলেন, ‘আমরা এত দিন ধরে বেতন পাচ্ছি না; কোনো বিক্ষোভও করিনি। মানবেতর জীবনযাপন করায় এখন বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি করতে হচ্ছে। আমরা এখানে যারা কাজ করি; তাদের বৃহৎ একটি অংশ শিক্ষার্থী। এই বেতন দিয়েই চলতে হয়।
কিন্তু কাজ করছি, বেতন পাচ্ছি না। বেতন চাইতে গেলে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলে। চলে যেতে চাইলেও বেতন দেয় না। আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করে এখানকার কর্মকর্তারা।’
আজমীর নামের আরেক কর্মী বলেন, ‘আমাদের এখানে আট শতাধিক কর্মী রয়েছে। কারও কারও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন চাইতে গেলে কয়েকজনকে মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। রোজার ঈদের আগে বেতন পরিশোধের কথা বলায় আমাদের অনেকের চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে।
কল সেন্টারের ফোনও নিয়ে নিয়েছে। বেতন না দেওয়ায় আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করাতে বাধা দেওয়ায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের বেতন দ্রুত না দিলে আমরা এখান থেকে কেউ যাব না। এমনকি আমাদের আন্দোলন এভাবে চলবে।’
এ বিষয়ে পার্ক ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজালাল বলেন, ‘কর্মীদের বিক্ষোভ শুনে আমরা এসেছি। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ দুঃখজনক। বিক্ষোভের বিষয়টি পার্ক কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তারাও আশ্বাস দিয়েছে, কর্মীদের বেতন পরিশোধে চালডাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।’
জানতে চাইলে চালডাল ডটকম যশোরের সহকারী পরিচালক অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমি শুরু থেকে এখানে কাজ করছি। আগে বেতন নিয়ে এমন হয়নি। ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ায় এই অবস্থা। আমারও বেতন বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছেন।’
কোতোয়ালি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বলেন, ‘বিক্ষোভের খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি সমাধানে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’