হোম > বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধে ‘শান্তির পায়রা’ পাকিস্তান হয়ে উঠল যেভাবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের উত্তাল দিনগুলোতে বিশ্বরাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের ভয়াবহ সংঘাতের পর যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হঠাৎ ‘শান্তির দূত’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। ৮ এপ্রিল ঘোষিত দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং বিশেষ করে দেশটির ‘ফিল্ড মার্শাল’ আসিম মুনিরের দূরদর্শী কূটনীতির ফসল।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা নিরসনে তুরস্ক বা মিসরের মতো দেশগুলো ওয়াশিংটনের বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান ৫০ বছর ধরে ওয়াশিংটনে ইরানের স্বার্থ দেখাশোনা করছে। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এবং সাম্প্রতিক সময়ে আসিম মুনিরের মাধ্যমে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে গড়ে ওঠা যোগাযোগ এই আস্থার ভিত তৈরি করেছে।

শুধু তা-ই নয়, ২০১৮ সালে ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও প্রতারণার’ অভিযোগ তুললেও বর্তমানে পাকিস্তানি জেনারেলদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আমূল বদলে গেছে। আসিম মুনিরকে ট্রাম্প তাঁর ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তান অত্যন্ত সুকৌশলে ট্রাম্পের আস্থা অর্জন করেছে। গত বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। পাকিস্তানকে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং খনিজ সম্পদের হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে আসিম মুনির সরাসরি ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করেছে এবং হোয়াইট হাউসকে ইরানের কৌশলগত চিন্তাধারা বুঝতে সাহায্য করেছে।

তবে এই মধ্যস্থতার পথ পাকিস্তানের জন্য নিষ্কণ্টক ছিল না। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের মাখামাখিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ৪ এপ্রিল পাকিস্তানের সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশটিকে চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। তা সত্ত্বেও তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে পাকিস্তানের নিজস্ব অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে থাকায় যুদ্ধ থামানোই ছিল ইসলামাবাদের প্রধান লক্ষ্য।

পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ‘দুই ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরানি প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আর মার্কিন প্রতিনিধি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

বন্যা, মুদ্রাস্ফীতি, ভারতের সঙ্গে আকাশযুদ্ধ এবং আফগান সীমান্তে তালেবানদের সঙ্গে লড়াইয়ের মতো হাজারো অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান অবশেষে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ‘সেতুবন্ধনকারী’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলিল আব্বাস জিলানির মতে, ‘উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধ থামিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের বৈঠকের দিকে, যা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়ংকর যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

পুতিনের প্রোপাগান্ডা মেশিন যেভাবে কাজ করে

যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বেরোতে চায় মধ্যপ্রাচ্য, আলোচনায় নতুন নিরাপত্তা মডেল

অতীতে যেসব আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সফলভাবে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান

সুয়েজ ও পানামা খালে টোল বৈধ হলে, হরমুজে কেন নিতে পারবে না ইরান

আলোচনায় কি দূরত্ব ঘুচবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজে অনিশ্চয়তা—উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত হয়েও জয়ী ইরান

ইরানকেও পারমাণবিক শক্তিধর বানাতে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের কাদির খান, যেভাবে চলেছিল কার্যক্রম

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

ইরান থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন ট্রাম্প