পুরোনো লোহার রেল সেতু চুরির পর এবার ভারতের বিহারে আস্ত একটি মোবাইল টাওয়ার চুরি হয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বক্সার জেলায়। অভিযোগ উঠেছে, বক্সার জেলায় ১৩২ ফুট উঁচু একটি বিশালাকার মোবাইল টাওয়ার ও এর সঙ্গে থাকা ১৫ কেভিএ (কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার) ক্ষমতার একটি জেনারেটর এক রাতেই গায়েব হয়ে গেছে।
বিহারের বক্সার জেলার দুমরাও এলাকায় জিটিএল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানির একটি মোবাইল টাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি কোম্পানির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী টাওয়ারটি মেরামত করতে ওই স্থানে যান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। কারণ ১৩২ ফুট উঁচু সেই বিশাল টাওয়ারের কোনো অস্তিত্বই সেখানে ছিল না! টাওয়ারের পাশাপাশি সাইটে বসানো ১৫ কেভিএ-র জেনারেটর সেট এবং অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জামও চুরি হয়ে গেছে।
একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার মাঝখান থেকে এত বড় একটি টেলিকম টাওয়ার কীভাবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে গায়েব হয়ে গেল, তা ভেবে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
টাওয়ার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কোম্পানির একজন প্রতিনিধি দুমরাও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ। বক্সারের পুলিশ সুপার (এসপি) শুভম আর্য বলেন, ‘টাওয়ার চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে জমির মালিক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে জমির মালিক হরেনাথ যাদব ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, প্রায় ১০ বছর আগে টাওয়ারটি বসানোর জন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং কোম্পানি জমির ভাড়া দেওয়াও বন্ধ করে দেয়। হরেনাথ বলেন, ‘আমরা কোম্পানিকে চারবার নোটিশ পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আর এখন জানতে পারছি যে টাওয়ারটিই গায়েব হয়ে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ কুমার সিং জানান, টাওয়ারটি প্রায় ১৫ বছর আগে ওই এলাকায় স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে এটি অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল।
বিহারে এই ধরনের অদ্ভুত ও বড়সড় চুরির ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে রাজ্যের রোহতাস জেলার দেহরি-অন-সোন এলাকায় সোন নদীর ওপর থাকা ব্রিটিশ আমলের একটি পুরোনো লোহার রেল সেতুর বড় অংশ চুরি হয়ে গিয়েছিল। সে সময় সরকারি কর্মকর্তা সেজে চোরচক্র ৬০ ফুট লম্বা এবং ৫০০ টন ওজনের লোহার তৈরি ওই সেতুটি কেটে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিহারের সমস্তিপুর জেলায় রেলের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ আস্ত একটি রেললাইন এবং এর স্ক্র্যাপ বা লোহালক্কড় চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরেরা। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত চোরদের হদিস পাওয়া যায়নি।