হোম > প্রযুক্তি

ডিজিটাল ডেটা চুরিতে যেসব বিপদ হতে পারে

ফিচার ডেস্ক

প্রতীকী ছবি

ডিজিটাল ডেটা চুরি—বিষয়টি কয়েক দিন থেকে আমাদের দেশে বেশ ভাইরাল হয়ে গেছে। সম্প্রতি একটি চেইন সুপার শপের ডেটা চুরি গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এ বিষয়ে অনলাইনে মানুষের প্রতিক্রিয়া নেহাতই ট্রলের পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু ডেটা চুরি কি এতই ছোটখাটো বিষয় বা ট্রল করার মতো বিষয়? চলুন দেখে নেওয়া যাক, ডেটা চুরি হলে পরবর্তী সময়ে কোন ধরনের বিপদ হতে পারে।

ডিজিটাল যুগে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজের নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, ঠিকানা, এমনকি কখনো কখনো পেমেন্ট সম্পর্কিত তথ্যও দিয়ে থাকি। কিন্তু এসব তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।

  • পরিচয় চুরি: এটি বড় ঝুঁকি। হ্যাকাররা আপনার নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে বা প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত হতে পারে। এমনকি আপনার পরিচয়ে ঋণ নেওয়া বা অনলাইন সেবা ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটতে পারে, যার দায় এসে পড়তে পারে আপনার ওপর।
  • ফিশিং ও প্রতারণা: এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। হ্যাকাররা আপনার তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য মেসেজ বা কল করতে পারে আপনাকে কিংবা আপনার পরিচিত মানুষদের। যেমন ‘আপনি বিশাল অঙ্কের একটি অফার জিতেছেন’ বা ‘আপনার অ্যাকাউন্ট আপডেট করতে হবে’। এসব মেসেজ এতটাই বাস্তব মনে হতে পারে যে অনেকেই প্রতারিত হয়ে নিজেদের ওটিপি বা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য দিয়ে দিতে পারেন প্রতারকদের। তাতে ঝুঁকি আরও বাড়বে।
  • আর্থিক ক্ষতি: ডেটা চুরি যাওয়ার পর প্রথম হতে পারে আর্থিক ক্ষতি। যদি কারও পেমেন্টসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়, তাহলে সরাসরি টাকা চুরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি শুধু মোবাইল নম্বর দিয়েও বিভিন্ন সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হতে পারে।
  • ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার হুমকি: আপনার বাসার ঠিকানা, কেনাকাটার অভ্যাস বা রুটিন জানা থাকলে অপরাধীরা তা ব্যবহার করে টার্গেটেড অপরাধ সংঘটিত করতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও সংবেদনশীল।

করণীয় কী

  • সতর্ক থাকুন: অচেনা নম্বর বা সন্দেহজনক মেসেজে সাড়া দেওয়ার আগে যাচাই করুন। কোনো ওটিপি ও পাসওয়ার্ড কখনো শেয়ার করবেন না।
  • পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন: যদি মনে হয় আপনার তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড দ্রুত বদলে ফেলুন।
  • টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন: এতে অ্যাকাউন্ট আরও সুরক্ষিত থাকবে।
  • ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট নিয়মিত চেক করুন: কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে কি না দেখুন এবং সে অনুসারে ব্যবস্থা নিন।
  • তথ্য দেবেন না: অফিশিয়াল সোর্স ছাড়া কোথাও কোনো তথ্য দেবেন না।

শুধু কাস্টমারদের সচেতন হলেই হবে না—প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ডেটা সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ, একবার তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে তা আর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না।

ফলে ডেটা চুরি বিষয়ে সামাজিকমাধ্যমে ট্রল না করে এর ঝুঁকিগুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা জরুরি। সেই সঙ্গে জরুরি সচেতন হওয়া।

স্মার্ট প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

চীনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার: ইঁদুরের মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণের নতুন প্রযুক্তি

কিউআর কোডে সাইবার ফাঁদ

অপরিচিত নম্বরের ফোনকল বা মেসেজ থেকে সতর্ক থাকুন

১৫৬ বছরের পথচলা: এবার টিকটকে বিজ্ঞান নিয়ে হাজির বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘নেচার’

এফবিআই পরিচালকের ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাক করেছে ইরানিরা

কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে হিউম্যানয়েড

গবেষণায় ডিজিটাল পাসপোর্ট কেন দরকার

১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনছে অস্ট্রিয়া

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি, লস অ্যাঞ্জেলেসে মেটা-গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা