ম্যাচের বয়স তখন ৮৮ মিনিট। জয়ের সুবাস নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডাচরা। ঠিক তখনই টেক্সাস স্টেডিয়ামে ব্লু সামুরাইদের প্রাণ ফেরালেন দাইচি কামাদা। শেষ মুহূর্তে তাঁর নাটকীয় গোলে নেদারল্যান্ডসের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় জাপান। ৪ গোলের থ্রিলারে তাই ২-২ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দুই দল।
প্রথমার্ধের ম্যাড়মেড়ে ফুটবল দেখে বোঝার উপায় ছিল না দ্বিতীয়ার্ধে কতটা নাটকীয়তা অপেক্ষা করছে। শুরুর ৩ মিনিটেই লিড পেতে পারত ডাচরা, তবে ডনিয়েল ম্যালেনের জোরালো শট দুর্দান্ত ডাইভে নসাৎ করে দেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। প্রথমার্ধের শেষদিকে অবশ্য খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপানও। ৪৩ মিনিটে কেইতো নাকামুরা সহজ সুযোগ মিস করার পর, বিরতির ঠিক আগে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইককে ফাঁকি দিয়ে আয়েসে উয়েদার নেওয়া শট জালের পাশে আছড়ে পড়ে।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে দেখা মেলে ৩টি দৃষ্টিনন্দন গোলের।
ম্যাচের ৫০ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন ফন ডাইক। ফ্রি কিক থেকে ফিরে আসা বল ধরে ডানপ্রান্ত থেকে দারুণ এক ক্রস বাড়ান রায়ান রায়ান খ্রাফেনবের্খ। বক্সে ওত পেতে থাকা ফন ডাইক বুলেট হেডে বল জালে জড়ান (১-০)।
ডাচদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয় মাত্র ৬ মিনিট। ৫৬ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ডাচ ডিফেন্স ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন তাকেফুসা কুবো। তাঁর চমৎকার কাট-ব্যাক থেকে উইংব্যাক কেইতো নাকামুরার নেওয়া নিচু শট ডাচ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে পরাস্ত করে গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুখেনকে (১-১)।
সমতায় ফিরে ম্যাচ যখন আবারও সমান ঠিক তখনই ৬৩ মিনিটে আসে ডাচদের এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। জাতীয় দলের জার্সিতে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিসেনসিও সামারভিল ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক ‘কাট-ইন’ করেন। এরপর বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান ওয়েস্টহ্যামের এই উইঙ্গার ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে ব্যবধান ধরে রাখতে রক্ষণাত্মক কৌশল নেন ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যান। মিডফিল্ডার খ্রাফেনবের্খ কে তুলে তিনি মাঠে নামান ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার নাথান আকেকে। আর এই অতি রক্ষণাত্মক কৌশলের চড়া মূল্য দিতে হয় নেদারল্যান্ডসকে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে অলআউট আক্রমণে ঝাঁপায় জাপান। ৮৬ মিনিটে নাকামুরার একটি বিপজ্জনক ক্রস ওগাওয়া ছুঁতে না পারলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় ডাচরা।
তবে ৮৮ মিনিটের শেষ রক্ষা হয়নি। ডানপ্রান্ত থেকে জাপানের নেওয়া কর্নার কিকে প্রথম হেড করেন বদলি ফরোয়ার্ড কোকি ওগাওয়া। গোলপোস্টের সামনে দাঁড়ানো দাইচি কামাদা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল তাঁর শরীর ছুঁয়ে গোললাইনের দিকে ছুটে যায়। ডাচ গোলরক্ষক ভারব্রুখেন ডাইভ দিয়ে বলের নাগাল পেলেও তা জালে জড়ানো থেকে আটকাতে পারেননি।
শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় সমতায় হারের মুখ থেকে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে উৎসবে মাতে জাপান।