হোম > খেলা > ফুটবল

বিশ্বকাপে অঘটন, স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

ক্রীড়া ডেস্ক    

দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ছবি: এএফপি

ফুটবলের আসল সৌন্দর্য সম্ভবত এখানেই লুকিয়ে থাকে, যেখানে খাতা-কলমের পরিসংখ্যান আর ফিফা র‍্যাঙ্কিং মাঠের ৯০ মিনিটের কাছে এসে একেবারে অর্থহীন হয়ে পড়ে। তা নয়তো কী! একদিকে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩ নম্বরে থাকা শিরোপার অন্যতম দাবিদার স্পেন, যাদের স্কোয়াড ঠাসা ইউরোপ সেরাদের নিয়ে। অন্যদিকে ৬৪ নম্বরে থাকা আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে এই অসম লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল নেহায়েতই একপেশে। কিন্তু সেটিই রূপ নিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম এক অঘটনে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে।

ম্যাচের শুরু থেকেই অনুমিতভাবে বলের দখল ছিল স্পেনের পায়ে। কিন্তু কেপ ভার্দের কোচ পেদ্রো ব্রিতোর রণকৌশল ছিল একেবারে নিখুঁত। ৫-৪-১ ছকে নিচে নেমে এসে তারা স্পেনের খেলোয়াড়দের কোনো জায়গাই দেয়নি। প্রথমার্ধে স্পেনের হতাশা ছিল স্পষ্ট। ৩৯ মিনিটে পেদ্রির অসাধারণ এক পাস থেকে ফেরান তোরেসের বুলেট গতির শটটি যখন ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, তখনই যেন দুর্ভাগ্যের আভাস পাচ্ছিল স্পেন। ফিরতি বলে ওয়ারসাবালের হেড দারুণভাবে রুখে দেন ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও লাপোর্তের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় আঙুলের ডগা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশদের সামনে ত্রাস হয়ে ছিলেন তিনি। ৭টি সেভ দিয়ে স্পেনকে রাখেন বোতলবন্দী।

বিরতির পর লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল খোলস ছেড়ে বেরোনোর চেষ্টা করলেও চিত্রনাট্য বদলায়নি। স্পেনের পাসিংয়ে ছিল না কোনো তীব্রতা, ছিল না প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার মতো কোনো অভাবনীয় চাল। সময় যত গড়িয়েছে, কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তত বেড়েছে। ৭১ মিনিটে মরিয়া স্পেন কোচ মাঠে নামান লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল মেরিনোকে।

ইয়ামাল আসার পর স্পেনের খেলায় কিছুটা গতি এলেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ টলানো যায়নি। ৮৬ মিনিটে স্পেনের হতাশার চূড়ান্ত রূপটি দেখা যায়, রদ্রি বক্সের বাইরে থেকে ধৈর্য হারিয়ে এলোপাতাড়ি এক শট মেরে বসেন, যা চলে যায় বারের অনেক ওপর দিয়ে। রদ্রিকে তুলে নিয়ে নিকো উইলিয়ামসকে নামিয়ে শেষ জুয়াটা খেলেছিল স্পেন। কিন্তু ৮৮ মিনিটে ওয়েরজাবাল যখনই গোলের জন্য পা বাড়িয়েছিলেন, তখনই আক্ষরিক অর্থেই নিজের শরীরকে কামানের গোলার মতো ছুঁড়ে দিলেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার পিকো লোপেস। মাথা দিয়ে বলটি ক্লিয়ার করে তিনি দলকে বাঁচিয়ে অমরত্বের স্তরে নিয়ে যান।

নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ৯০ মিনিটে রূপকথাকে আরও অবিশ্বাস্য বানানোর সুযোগ চলে এসেছিল কেপ ভার্দের সামনেই। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কেভিনের শট ওলমোর পায়ে লেগে কর্নার হলে পুরো স্টেডিয়ামের শ্বাস স্তব্ধ হয়ে যায়। সেই কর্নার থেকে বোরগেসের নেওয়া হেডটি সরাসরি স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোনের হাতে না গেলে হয়তো আজ স্পেনের পরাজয়ের গল্প লিখতে হতো।

যোগ করা ৫ মিনিটের শেষ হওয়ার কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দেয় মাঠে নামের ভার নয়, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করাটাই শেষ কথা। এই ড্র স্পেনের জন্য বেশ লজ্জার, কিন্তু কেপ ভার্দের জন্য অনাবিল আনন্দের। ফুটবল কেন অপরাজেয়, বিশ্বকাপ কেন সুন্দর—আটলান্টার এই ঐতিহাসিক রাত আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।

সুখবর ও স্বস্তি নিয়ে শুরু করছে আর্জেন্টিনা

স্পেনকে স্তব্ধ করা কেপ ভার্দে গোলরক্ষককে কেন ‘দাদি’ ডাকা হয়

মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে ব্রাজিলের ফুটবলাররা

প্রবাসী ছোঁয়ায় মুখর বিশ্বকাপ

ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় মেসি

বিশ্বকাপের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে সুইডেনের কাছে হেরে বরখাস্ত তিউনিসিয়া কোচ

তাহলে এই কারণে বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন না ইয়ামাল

ভিএআর স্টুডিওর দিকে রেফারির বিতর্কিত ইশারা, বিশ্বকাপে নতুন ঝড়

বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক: কারও কাছে আশীর্বাদ, কারও কাছে অভিশাপ