ভারত সীমান্তে পুশ ইন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবের (সাধারণ) আলোচনা স্থগিত করা নিয়ে সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। কার্যপ্রণালী-বিধির প্রস্তাব (সাধারণ) বিধি-১৪৭ অনুসারে একটি প্রস্তাবের ওপর আজ রোববার সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে সকালে দেওয়া নতুন কার্যসূচিতে বিষয়টি ছিল না।
গত বৃহস্পতিবার ওই দিনের সংসদ অধিবেশনের মুলতবির পর রোববারের কার্যসূচিতে বিষয়টি উল্লেখ ছিল। প্রস্তাবটি এনেছিলেন জামায়াতের এমপি আহমদ বিন কাসেম।
প্রস্তাবে বলা হয়, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশ ইন তৎপরতার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য বিধায় জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি মহান জাতীয় সংসদে আলোচনা।’
আজ বিকেলে সংসদের অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান আহমাদ বিন কাসেম। তিনি বলেন, ‘আমি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিশ দিয়েছিলাম। সংসদের মুলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয়– আজকে রবিবার এই বিষয়টি আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে মুলতবি শাখা থেকে আমাকে জানানো হলো– অনিবার্য কারণবশত এই প্রস্তাবটি, যেটি গৃহীত হয়েছিল, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেখানে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, অনিবার্য কারণবশত সেটা স্থগিত করা হয়েছে।’
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন তুলে বলেন, এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়–যেটি কোনো দলীয় এজেন্ডাও নয়, অথচ অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো, জনগণের রক্তের চেয়ে বেশি গুরুত্ব আর কিসের থাকতে পারে?
আহমদ বিন কাসেম আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রশ্ন– এটা যে স্থগিত হলো, পরবর্তী কবে এটা আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে?’
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘নোটিশটা আমার সামনেও আছে। স্থগিত একটা টেম্পোরারি মেজার। বাজেট অধিবেশন চলছে। আমাদের সময়ের সীমাবদ্ধতা আছে। ইট ইজ ভেরি ফান্ডামেন্টাল পার্ট। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক কোনো এক সময় নোটিশের ওপর আলোচনা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ রোববার আহমাদ বিন কাসেমকে একটি চিঠি দিয়ে সংসদের মুলতবি ও অধিকার শাখা থেকে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত এই নোটিশটির ওপর আজকের আলোচনা স্পিকার স্থগিত করেছেন।