ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আজ শুক্রবার মাগরিবের বিরতির আগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়। অধ্যাদেশটি হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। কিন্তু সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়—এমন তিনটি সংশোধনী এনে আজ বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বিল পাসের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এখানে সংশোধনী আনার মাধ্যমে সরকারি দল রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। দিনদুপুরে ছলচাতুরির মাধ্যমে সংশোধিত আকারে বিলটি পাস করা হয়েছে।
তবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংশোধনী একজন বেসরকারি সদস্য এনেছেন। সরকার আনেনি। প্রয়োজনে পরে বিলটি আবার সংশোধন করা যাবে।
আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বেসরকারি সদস্য বিল আনলে তো মন্ত্রী সেটা গ্রহণ না করলেও পারতেন। এটি ‘দিনদুপুরে একটা ছলচাতুরী’ ও ‘জোচ্চুরির’ মাধ্যমে বিল সংশোধনীসহ পাস করে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তারা চাইলে যেকোনো আইন পাস করতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলের ভূমিকা যদি শুধু হাত তোলায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সংসদে থাকার অর্থ থাকে না।
বিষয়টি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সঙ্গে বিতর্কের একপর্যায়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিল পাসের দীর্ঘ বিতর্কের পর সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ আরও দেখা হবে, এখানেই দেখা হবে। তবে আজকের মতো দুঃখ নিয়ে আমরা ওয়াকআউট করছি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে অনুমোদন করে জাতীয় সংসদ। সংশোধনী এনে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে এ জাদুঘরের পর্ষদের সভাপতি করা এবং জনস্বার্থে সরকারকে যেকোনো সময় যেকোনো সদস্যদের মনোনয়ন বাতিলের ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশটি সংসদে হুবহু ঠিক রেখেই বিল আনা হয়েছিল। তবে এ বিলে তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব দেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান। তাঁর তিনটি সংশোধনী প্রস্তাবই গৃহীত হয়।
আনিসুর রহমান সংশোধনী আনার প্রস্তাব দেওয়ার পর এ বিষয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে এভাবে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই। বিরোধী দলের সদস্যদের আগেই সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া উচিত ছিল।
পরে সরকারি দলের সদস্যের আনা সংশোধনী প্রস্তাব তিনটিই গ্রহণ করা হয় এবং কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাস হয়।
অধ্যাদেশে পর্ষদের সভাপতির বিষয়ে বলা ছিল, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত শিক্ষা, ইতিহাস, সাহিত্য বা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ একজন ব্যক্তি পর্ষদের সভাপতি হবেন।
এখানে সংশোধনী এনে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে পর্ষদের সভাপতি করার বিধান করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা ছিল, পর্ষদের কোনো সদস্য যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।
এখানে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, পর্ষদের কোনো সদস্য বা সভাপতি যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশে পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন। অথবা সরকার জনস্বার্থে যেকোনো সময় যেকোনো সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করতে পারবে।
অধ্যাদেশে বলা আছে, পর্ষদের সভাপতি মনোনয়নের তারিখ থেকে তিন বছর পদে থাকবেন এবং অনধিক এক মেয়াদের জন্য পুনঃমনোনয়নের যোগ্য হবেন। এটা বাদ দেওয়ার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব দেন সরকারি দলের ওই সদস্য। এটিও গৃহীত হয়।