চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা না করলে ২০২৬-২৭ সালে আরেকটি অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইঙ্গিত দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অনেক সময় আপনারা বিভিন্ন আলোচনায় বলেন, ১৫ বছরে অভ্যুত্থান হবে না, ২০ বছরে হবে না। এটার নজির বাংলাদেশে আছে। উনসত্তরের অর্জনটা যখন রক্ষা করা যায় নাই, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। চব্বিশের অর্জন রক্ষা করা না গেলে আবার ২৬-২৭ সালে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’
সরকারকে সতর্ক করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় না মানলে সেদিন থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলা শুরু করব। এর জন্য আমরা সময় নেব না। আপনারা যেমন আমাদের সব অর্জন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন না, আমরাও সময় নেব না।’
সরকারের সমালোচনা করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সরকার যে প্রক্রিয়াগুলো অবলম্বন করছে, এর মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের জন্ম হয়। বিগত সময়ে যে ফ্যাসিবাদ দেখা গেছে, এখন সেই স্বৈরাচারের সব লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের সময়ের গণভোটের সঙ্গে এবারের গণভোটের পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলের গণভোটের সঙ্গে এই গণভোটের তুলনা করা হয়। কিন্তু দুই গণভোটের সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। জিয়াউর রহমানের সময় বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে একটা কিংস পার্টি তৈরি করার জন্য গণভোট করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের গণভোট হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে। গণভোটে জনগণ কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার, এই কমিটির সদস্য জাভেদ রাসিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।