বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যে কিছুটা বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির অধীনে ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমার কারণে আমদানি করা এলএনজিসহ গ্যাস সরবরাহ দেশের সার্বিক চাহিদার তুলনায় বর্তমানে কম বিধায় দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি হচ্ছে। ফলে সব এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের বিতরণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে আবাসিক গ্যাস-সংযোগের কোনো পরিকল্পনা নেই।
নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণিতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান স্থগিত রয়েছে। তবে শিল্প ও ক্যাপটিভ শ্রেণিতে শর্তাধীনে নতুন সংযোগ চালু রয়েছে।
জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে গ্যাস-সংকট নিরসনে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী এক বছরে ১১টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার মহাপরিকল্পনার আওতায় সব কূপ খনন কাজের সফল সমাপ্তিতে আনুমানিক ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে।