কবর থেকে কঙ্কাল তুলে প্রক্রিয়াজাতের পর বিক্রির জন্য দখলে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, মো. আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ এবং ফয়সাল আহম্মেদ। তাঁদের মধ্যে সৌমিক উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আর ফয়সাল একই কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নের জন্য অপেক্ষমাণ।
আদালতের তেজগাঁও থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আরিফ রেজা চারজনকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ ও উত্তরা এলাকা থেকে গতকাল সোমবার রাতে ফয়সাল, সৌমিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার এসআই মিরাজ উদ্দিন আজ মঙ্গলবার মামলা করেন।
আজ দুপুরে চারজনকে আদালতে হাজির করে তেজগাঁও থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন নাফিস তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়ার ১ নম্বর গেটের সামনে কবরস্থান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। ওই সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৪৪টি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে এসব কঙ্কাল চুরি করে আনা হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বলেছেন, চক্রটি গাজীপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহ থেকে কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্নজনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করত।