কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা যেমন বাড়ছে, তেমনি চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপদ্ধতির বিস্তারে অনেকের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে প্রযুক্তি যেমন কিছু কাজের ধরন বদলেছে, তেমনি একই সঙ্গে নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি করেছে এবং নতুন কর্মক্ষেত্রেরও জন্ম দিয়েছে। তাই ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের জন্য ভয় নয়, বরং সময়োপযোগী প্রস্তুতিই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। বিস্তারিত লিখেছেন রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্ল্যান্ট এইচআর হেড মোত্তাকিন হাসান।
১. এআই প্রতিযোগী নয়, সহযোগী: সিভি তৈরি, কভার লেটার লেখা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, ইংরেজি চর্চা কিংবা পেশাগত ই-মেইল লেখার মতো কাজে এআই হতে পারে কার্যকর সহযোগী।
২. প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করুন: মাইক্রোসফট এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, ডেটা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের প্রাথমিক দক্ষতা চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
৩. শিল্পসংশ্লিষ্ট জ্ঞান হালনাগাদ রাখুন: ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই জিএমপি, জিএলপি, জিডিপি, ফার্মাকোভিজিল্যান্স, রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ও মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স-সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সনদ পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
৪. যোগাযোগ দক্ষতায় বিনিয়োগ: ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিতে জ্ঞান যেমন প্রয়োজন, তেমনি তা উপস্থাপনের দক্ষতাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্টভাবে কথা বলা, প্রেজেন্টেশন দেওয়া এবং পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।
৫. প্রযুক্তি-অপ্রতিস্থাপনযোগ্য দক্ষতা উন্নত করুন: নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সহমর্মিতা, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের মতো মানবিক দক্ষতাগুলো প্রযুক্তি সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে এসব দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
৬. ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব দিন: শুধু ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্টার্নশিপ, শিল্প পরিদর্শন, গবেষণাকর্ম এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ চাকরিপ্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
৭. পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো: বর্তমান সময়ে ‘অ্যাডাপ্টেবিলিটি’ বা অভিযোজনক্ষমতা সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতাগুলোর একটি। যাঁরা দ্রুত শিখতে এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন।
৮. সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন: ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের কর্মক্ষেত্রও এখন অনেক বিস্তৃত। মেডিকেল প্রমোশনের বাইরে প্রোডাকশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স, রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, ফার্মাকোভিজিল্যান্স, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ও সাপ্লাই চেইনের মতো ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা।
৯. তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ুন: এআই অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও সব সময় নির্ভুল তথ্য দেয় না। তাই যেকোনো বৈজ্ঞানিক বা পেশাগত তথ্য ব্যবহার করার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
১০. শিক্ষার্থী হোন: আজীবন শিক্ষার্থী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি ডিগ্রি কর্মজীবনের সূচনা করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সফল হতে প্রয়োজন নিয়মিত শেখা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত রাখা।
বর্তমান বাস্তবতায় এআই সরাসরি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে না। তবে এআই ব্যবহারে দক্ষ ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকবেন। পরিবর্তন অনিবার্য, আর সেই পরিবর্তনকে সুযোগে পরিণত করার ক্ষমতা এখনো মানুষের হাতেই।