ইসলামে ইবাদতের প্রতিটি ধাপে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। অজু করার পরপর যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে পরিভাষায় ‘তাহিয়্যাতুল অজু’ বলা হয়। এই আমল ছোট হলেও এর ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম।
তাহিয়্যাতুল অজু কী?
‘তাহিয়্যা’ শব্দের অর্থ সম্ভাষণ বা স্বাগত জানানো। অজু করার পর সেই অজুর সম্মানার্থে এবং শুকরিয়া স্বরূপ যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তাহিয়্যাতুল অজু বলে। এই নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে:
১. জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার ঘোষণা: হজরত উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান ভালোভাবে অজু করে শরীর ও মনকে পুরোপুরি নিবদ্ধ রেখে (একাগ্রতার সঙ্গে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৩৪)
২. অতীতের গুনাহ মাফ: হজরত উসমান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে একাগ্রতার সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের সব (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ্ বুখারি: ১৫৯)
৩. জান্নাতে অগ্রিম স্থান: একবার ফজরের নামাজের পর নবীজি (সা.) হজরত বেলাল (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতে তোমার হাঁটার আওয়াজ আমি শুনতে পেয়েছি, তোমার বিশেষ আমলটি কী? বেলাল (রা.) উত্তর দিলেন, ‘তেমন বিশেষ আমল নেই, তবে আমি দিন-রাতে যখনই অজু করি, তখনই সাধ্যমতো (দুই রাকাত) নফল নামাজ আদায় করি।’ (সহিহ্ বুখারি: ১১৪৯)
তাহিয়্যাতুল অজু আদায়ের নিয়ম
এই নামাজ আদায়ের নিয়ম অন্যান্য নফল নামাজের মতোই অত্যন্ত সহজ। মনে মনে অজুকে স্বাগত জানিয়ে দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধুন। প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর পবিত্র কোরআনের যেকোনো একটি সুরা মিলিয়ে পড়ুন। সাধারণ নামাজের মতোই রুকু, সিজদা ও শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরিফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরান।
মনে রাখার বিষয় হলো, নামাজের নিষিদ্ধ তিন সময়ে (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং ঠিক দুপুরে) অজু করলে এই নামাজ আদায় করা যাবে না।