লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি সত্ত্বেও যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি এখনো স্বাক্ষরের পথে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘বিচারবোধহীন’ আখ্যা দেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বৈরুত হামলার ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়ায় ধাক্কা লেগেছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পিছিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, চুক্তি বাতিল হয়নি। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা পুরো বিষয়টাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সই কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে। এখনই হওয়ার কথা ছিল। এখন কয়েক ঘণ্টা পরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।’
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এমন একসময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই পক্ষের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। ট্রাম্প আশাবাদী অবস্থান নেওয়ার পর ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, চুক্তিটি আগামী শনিবার জেনেভায় স্বাক্ষরিত হবে।
বৈরুতে হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা ফোন করে তাঁকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তিনি বিস্মিত হন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমরা চুক্তি সই করতে যাচ্ছি, তার এক ঘণ্টা আগে।’ তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহ আগে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তবে ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কেউ নিহত হয়নি।
নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কেন এমন একটা হামলা চালাতে হলো? আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম। আমি তাঁকে সেটা জানিয়েছি। তাঁর কোনো বিচারবোধ নেই। আমি তাঁকে সেটা জানিয়েছি।’
চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা ইসরায়েলের জন্যও ইতিবাচক হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না, পারমাণবিক উপাদান নিষ্পত্তি করতে হবে এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে।