বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা বা জব্দকৃত ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের জব্দকৃত কোনো অর্থই ছাড় দেওয়া হয়নি। এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কত অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক উল্লেখ করেননি ওই কর্মকর্তা। আরেক ইরানি সূত্র জানায়, কাতারে রাখা ইরানের ৬০০ কোটি ডলারের জব্দ তহবিল ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তখন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এবার এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জব্দকৃত ইরানি অর্থ ছাড়ের খবরটি সঠিক নয়। ওয়াশিংটন এটি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
এদিকে, গতকাল ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছিলেন, কোনো ধরনের আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে বর্তমানে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য করে তোলা অত্যন্ত কঠিন হবে।
এদিকে আলোচনার আয়োজক দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা জারি রয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং ইরানি প্রতিনিধি দল বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারিভাবে একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শাহবাজ শরিফকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে।
তবে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়ের আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক কোনো ‘মুখোমুখি’ আলোচনার পথে যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।