ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধারে ২১টি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁর পাশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ২১টি সামরিক বিমান শত্রুদের আকাশসীমায় পাঠিয়েছিল। অনেক বিমান নিচ দিয়ে উড়ছিল এবং সেগুলোতে গুলি লাগছিল। দিনের আলোতে টানা সাত ঘণ্টা ইরানে এই অভিযান চালানো হয়। কিছু জায়গায় আমাদের সেনারা শত্রুপক্ষের ভারী গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মতো সামরিক শক্তি আর কারও নেই। আমাদের সেনারা তাঁদের সহকর্মীদের উদ্ধারের জন্য অসামান্য ঝুঁকি নিয়েছিলেন।’
প্রেসিডেন্ট জানান, উদ্ধারকারী দল প্রথম অভিযানেই সফলভাবে এফ-১৫ এর পাইলটকে খুঁজে বের করে। এইচএইচ-৬০ জলি গ্রিন-২ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁকে শত্রুর এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়। ওই সময় মার্কিন সেনারা খুব কাছ থেকে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্য (একজন উচ্চপদস্থ কর্নেল ও ওয়েপন সিস্টেম অফিসার) পাইলট থেকে অনেক দূরে অবতরণ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি গুরুতর আহত ছিলেন এবং এমন এক এলাকায় আটকা পড়েছিলেন যা আইআরজিসি , বাসিজ মিলিশিয়া এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দক্ষিণ ইরানে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, মার্কিন সামরিক বাহিনী নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে।