হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ক্ষমতা পেয়েই মার্কিন নীতিতে নজিরবিহীন রদবদল ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন এবং আশ্রয়ের ওপর কঠোর নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন প্রশাসনে, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিভিন্ন চুক্তি ও সংস্থা থেকে। বাইডেন প্রশাসনের ৭৮টি আদেশ বাতিল করেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ের শুরু থেকেই ট্রাম্প অনেকবার বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে আমেরিকার প্রশাসন পাল্টে দেবেন।

২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রত্যাহার, জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিল এবং সরকারি কর্মীদের পূর্ণ সময়ের জন্য অফিসে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্যায়ভাবে বেশি অর্থ নিয়ে থাকে। তাই এই সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। এমনকি, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদেও তিনি এই চুক্তি থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও আশ্রয়ের ওপর কঠোর নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিল করার চেষ্টায় নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার ট্রাম্প বলেছিলেন, শপথ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে এই আদেশে সই করবেন তিনি। পাশাপাশি অবৈধ মানব ও মাদক পাচার এবং অপরাধের অভিযোগে সীমান্তে কড়াকড়ির আদেশে সই করেছেন তিনি। এই আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

প্রশাসনের কর্মীদের ওপরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশে সরকারি কর্মীদের পূর্ণ সময়ের জন্য অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। কোভিড মহামারির সময় করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বাসা থেকে কাজ করার ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের এখন থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন পূর্ণ সময় দপ্তরে হাজির থাকতে হবে।

আরেকটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শক্তির রপ্তানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আদেশে বলা হয়, দেশে তেলের খনন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তেলের মজুত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শাসনামলে দেওয়া নির্বাহী আদেশগুলোর ওপর বেশ কাটাকুটি চালিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট। এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি বসতকারীদের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া কিউবাকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা রাষ্ট্রের কালো তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন ট্রাম্প।

২০২০ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় ১৫০০ জনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

জেন্ডারভিত্তিক স্বীকৃতি নিয়ে নির্বাহী আদেশ করার কথা ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন। এবার একটি আদেশে তিনি বলেন, এখন থেকে মার্কিন সরকার শুধু ‘দুই লিঙ্গ—পুরুষ ও নারী’ স্বীকৃতি দেবে।

প্রযুক্তিজগতে ট্রাম্পের প্রভাব বেশ ভালোমতোই এবার দেখা যাবে। এক আদেশে টিকটকের কার্যত নিষেধাজ্ঞার ৭৫ দিনের বিরতি ঘোষণা করেছেন তিনি। এর চীনা মালিকের সঙ্গে একটি অংশীদারত্বের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

প্রথম দিনেই এ ধরনের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসে পাসের পর কতগুলো আদেশ বাস্তবায়িত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।

ইতিহাস গড়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে যাচ্ছেন ট্রাম্পের স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

খামেনিকে হত্যা করতে পারলেও ইরানকে ‘ঠিক’ করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সিনেটর

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে—বলছেন ট্রাম্প

ইরানের নতুন নেতৃত্ব আলোচনা চায়, আমি রাজি: ট্রাম্প

ইরানে অভিযান শুরুর পর ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৫

ওমান উপসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

খামেনি নিহত হয়েছেন, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা: বাড়তি শুল্কের অর্থ ফেরত দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রশিল্প মাটিতে মিশিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য: ট্রাম্প