ইরানের সাবেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাগনি ও নাতনিকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁদের আইনগত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ‘গ্রিন কার্ড’ বাতিল করার পর শনিবার (৪ এপ্রিল) এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামিদা সোলেইমানি আফশার এবং তাঁর মেয়ে এখন ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও তাঁদের গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সোলেইমানি আফশারের স্বামীকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও হামিদা সোলেইমানি আফশার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক ছিলেন। তিনি ইরানি শাসনের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার উদ্যাপন এবং আমেরিকাকে ‘বড় শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। এ ছাড়া তিনি ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত আইআরজিসির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব আলী লারিজানির মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির-লারিজানি এবং তাঁর স্বামী সৈয়দ কালান্তর মোতামেদির আইনি মর্যাদাও বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নেই এবং ভবিষ্যতে তাঁদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কাসেম সোলেইমানি (১৯৫৭–২০২০) ছিলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান। ১৯৯৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করেন। তাঁকে ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং সিরিয়া ও ইরাক যুদ্ধের প্রধান সমরকৌশলী মনে করা হয়। ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।