হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুতে ব্যর্থ পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা: ব্রিটিশ জরিপ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষাকেন্দ্রিক এক শিক্ষাব্যবস্থা তরুণদের কর্মজীবনের জন্য অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলছে। এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী অ্যালান মিলবার্ন। এমনকি জরিপও তাঁর বক্তব্য সমর্থন করছে। নতুন এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকরা মনে করেন শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা ছাড়াই শিক্ষাজীবন শেষ করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অ্যালান মিলবার্ন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সরকারের সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে সরকার-নিযুক্ত একটি পর্যালোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মিলবার্ন বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা বাস্তব জীবনের প্রস্তুতির চেয়ে একাডেমিক বাছাইয়ে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকেরা ঠিকই বলছেন। আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, যা একাডেমিক দক্ষতার ভিত্তিতে তরুণদের বাছাই করতে অত্যন্ত দক্ষ, কিন্তু তাদের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে দুর্বল। বারবার নিয়োগকর্তারা বলছেন, তরুণরা কাজের জন্য প্রস্তুত নয়।’

সম্প্রতি জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগভের এক জরিপের প্রেক্ষাপটে মিলবার্ন এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ৪ জন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর করা ওই জরিপে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭৪ শতাংশ) শিক্ষক বলেছেন, পরীক্ষায় পাস করার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হচ্ছে। আর ৭৩ শতাংশ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি বা ‘সফট স্কিল’ উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

মিলবার্ন বলেন, এই তথ্যগুলো স্কুল ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করা উচিত। তাঁর ভাষায়, একাডেমিক সাফল্য ও কর্মদক্ষতাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষাগত মান এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতা—এগুলো একে অপরের প্রতিযোগী নয়।’ তিনি আরও বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ নয়, ‘যোগাযোগ ও সহযোগিতার দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা’ অর্জন করাও জরুরি।

জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষকই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত। প্রায় ৭৩ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, পাঠ্যক্রম এমনভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, যাতে মান বজায় রেখেই কর্মমুখী দক্ষতার বিস্তৃত পরিসর শেখানো যায়। ক্যারিয়ারভিত্তিক সহায়তা জোরদারের পক্ষেও ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেছে। ৯৮ শতাংশ শিক্ষক সব স্কুলে ক্যারিয়ার পরামর্শ চালুর পক্ষে, ৯২ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থদের ১৬ বছর হওয়ার আগেই আরও ব্যবহারিক বা কারিগরি শিক্ষার পথ চালুর পক্ষে, এবং ৯৫ শতাংশ বর্তমান ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরির পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রতি ১০ জনের ৬ জন শিক্ষক বলেছেন, গত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল খারাপ হয়েছে। আর ৬৬ শতাংশ মনে করেন, সামগ্রিকভাবে কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুতি কমে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে মিলবার্নের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পর্যালোচনায় তরুণদের কর্মবিমুখতার পেছনের কারণগুলো খোঁজা হচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধকতা এবং দক্ষতার অমিল। পাশাপাশি শিক্ষা, কল্যাণ ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ এই শ্রেণিতে পড়ছে। এই সংখ্যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে মন্ত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ৬৮ বছর বয়সী মিলবার্ন বলেন, বর্তমান শিক্ষামডেল যদি পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই অগ্রাধিকার দিতে থাকে, তাহলে তা আরও বেশি পর্যালোচনার মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় গুণাবলি অর্জন করতে হবে—যোগাযোগ ও সহযোগিতা, অভিযোজন ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা। স্কুলে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার স্বাগত এবং দিকনির্দেশনাও সঠিক, তবে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে বড় পরিসরে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মিলবার্ন আরও যোগ করেন, স্কুলগুলো চাইলে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে এবং অর্থবহ কাজের অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়াতে পারে। তার মতে, শ্রমবাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনই উন্নত ফলাফল অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যখন প্রায় ১০ লাখ ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে নেই, তখন এমন একটি ব্যবস্থাকে—যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অবস্থানের চেয়ে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বেশি মূল্যায়িত হয়—আমার পর্যালোচনায় অবশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।’

নেতানিয়াহু বিচারবোধহীন, ইরান চুক্তি হবেই: ট্রাম্প

পাত্তা পেল না ভারতের উদ্বেগ, হরমুজে ‘অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা সহ্য করবে না’ যুক্তরাষ্ট্র

রোববারই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সই হবে: ট্রাম্প

৩০টির বেশি দেশে ১২০টি বিপজ্জনক জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ১, আহত ১১

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার সমালোচক ত্রিতা পারসির বিরুদ্ধে তদন্ত, বহিষ্কারের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখবেন না ট্রাম্প, পাঠাবেন আফ্রিকায়

পেন্টাগনে বিপজ্জনক রাসায়নিক আতঙ্কে লকডাউন, পরে জানা গেল ‘ভুল সতর্কবার্তা’

ভেনেজুয়েলা স্টাইলে ইরানের খারগ দ্বীপ ও তেল অবকাঠামো দখলের হুমকি ট্রাম্পের

‘চীনের হয়ে তথ্য সংগ্রহে’ মার্কিনিদের নিয়োগের চেষ্টা, ১২টির বেশি ওয়েবসাইট জব্দ