পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাকিস্তানি একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিষয়টি জানিয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সবচেয়ে হাই প্রোফাইল ব্যক্তিকে পাঠিয়েছেন—যেন শেষ মুহূর্তের চুক্তি সম্পন্ন করার দায়িত্বটি তিনিই নেন।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে। জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবে। ভাইস প্রেসিডেন্টকে পাঠানোই ইঙ্গিত দেয়—যুক্তরাষ্ট্র এখন এই চুক্তি দ্রুত শেষ করতে চায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই যুদ্ধটি মার্কিনিদের মধ্যে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। দেশটির এক-তৃতীয়াংশেরও কম মানুষ এর পক্ষে মত দিয়েছে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এ ছাড়া, চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনেও এই যুদ্ধ প্রভাব ফেলতে পারে। আর তেমনটা হলে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি।
এই প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প ভ্যান্সকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছেন চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করতে। মূল লক্ষ্য তিনটি—হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা, সেটিকে সচল রাখা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা। তবে বাস্তবে তাঁর বড় উদ্দেশ্য একটাই—এই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে নিজেকে একধরনের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরা। আর সেটি করতে হলে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখাই তাঁর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
এর আগে, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে পৌঁছান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন আলোচক দলকে বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনা ‘মেক অর ব্রেক’ বা চূড়ান্ত মোড় ঘোরানো মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার সময় তাদের চারদিক ঘিরে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। এতে ছিল এডব্লিউএসিএস আগাম সতর্কতা বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধবিমান, যারা ইরানি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেয়।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর তাঁদের অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র ব্লু এরিয়া দিয়ে যাওয়া দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কটি এখন পুরোপুরি স্থবির। সরকার দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে, আর মোতায়েন করা হয়েছে ১০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য।
বিমানবন্দর থেকে ইরানি প্রতিনিধিদল যখন শহরের দিকে রওনা দেয়, তখন তাদের নিরাপত্তা দেয় পাকিস্তানের এলিট কমান্ডো ইউনিট স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ। ইসলামাবাদ স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু পর, মেঘলা আকাশের নিচে ইসলামাবাদ প্রস্তুত সেই বহুল প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার জন্য।
মধ্যরাতের পর ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়, নেতৃত্বে ছিলেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শিগগিরই সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি অন্তত পুরো দিনজুড়ে চলবে। যেহেতু ভ্যান্স এখনো পৌঁছাননি, তাই আলোচনা রোববার পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।