হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

এক যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে আরেক যুদ্ধে আটকে গেল মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট এই দেশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটির উপকূলে মাছ ধরছেন এক ব্যক্তি। ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট কিন্তু তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত আবারও এক নতুন যুদ্ধের ছায়ায় পড়ল। কয়েক দশক আগে বিধ্বংসী সংঘাতের ক্ষত বহন করা এই দেশটি এখন আবার উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কারণ চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে।

এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে রোববার (১৫ মার্চ) সিএনএন জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের ধনী এবং তুলনামূলক নিরাপদ দেশগুলোতে অভ্যস্ত বাসিন্দাদের কাছে এই পরিস্থিতি ছিল অপ্রত্যাশিত এবং ভীতিকর। সাম্প্রতিক হামলার আশঙ্কায় এই অঞ্চল থেকে বহু প্রবাসী নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দর, আবাসিক ভবন ও তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর মিলেছে।

তবে কুয়েতের মানুষদের জন্য এই সংকট যেন অতীতের এক ভয়াবহ স্মৃতিকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেইনের নেতৃত্বে ইরাকের বাহিনী ছোট্ট এই দেশে আগ্রাসন চালিয়েছিল। ওই বছরের ২ আগস্ট ইরাকি বাহিনী কুয়েত দখল করে নেয়। কুয়েত সিটির উপকূলে বসে ৭০ বছর বয়সী জেলে খালিদ আল-ওজাইনা সেই স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘ওটাই ছিল শেষবার যখন আমাদের মাছ ধরতে নিষেধ করা হয়েছিল।’

আল-ওজাইনার পরিচালিত ফিশিং ক্লাবের শত শত নৌকা এখনো ঘাটে পড়ে আছে। সমুদ্র শান্ত দেখালেও এর পানিতে লুকিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। আল-ওজাইনা বলেন, ‘পরিস্থিতি তখনকার মতো ভয়াবহ নয়, কিন্তু এখনো বিপজ্জনক। কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা রয়েছে।’

১৯৯০ সালের আগ্রাসনের পর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইরাকি বাহিনী কুয়েত ও তার বিশাল তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল। সাত মাসের দখলদারিতে হাজার হাজার কুয়েতি সেনা ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৩৯ দেশের জোট বাহিনী কুয়েত দখল করে রাখা ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সেই যুদ্ধ ইতিহাসে ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে পরিচিত। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

যুদ্ধ শেষে ইরাকি সেনারা পিছু হটার সময় কুয়েতের শত শত তেলকূপে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘন কালো ধোঁয়া ও তেলের বৃষ্টি তখন দেশটিকে ঢেকে ফেলেছিল।

সেই যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। চলমান সংঘাতে এসব ঘাঁটির একটি ইরানের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ছয় মার্কিন সেনা এবং চারজন কুয়েতি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ।

বলা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে উপসাগরের কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ এটি। কুয়েত থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে এই প্রণালি এবং ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোও উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এ অবস্থায় ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে কুয়েতের তেল ট্যাংকার ও স্থলভাগের তেল স্থাপনাগুলো। তবে অনেক কুয়েতি মনে করেন পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। দেশটির অবসরপ্রাপ্ত বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক খালেদ আল-রশিদ বলেন, ‘এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে, আর কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসবের ৯৮ শতাংশই প্রতিহত করছে।’

তবু সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কুয়েত সরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বড় সমাবেশের ঝুঁকি এড়াতে কনসার্ট ও বিয়ের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

আল-ওজাইনা বলেন, ‘এই যুদ্ধ ছয় বা সাত মাসও চলতে পারে।’ আর আল-রশিদের মন্তব্যটি হলো—এটি এমন এক যুদ্ধ, যেখানে কুয়েতের কোনো লাভ নেই। আর যে-ই ইরানের মুখোমুখি হবে, শেষ পর্যন্ত সে-ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বৈরুত এখন ভুতুড়ে নগরী

ইন্টারনেট ব্লক এড়িয়ে যেভাবে চলছে ইরানিদের বিদেশে যোগাযোগ

এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল

যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো প্রস্তাব আমরা দিইনি—ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিলেন আরাঘচি

ইরানের পরমাণু স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপ, নিরাপদ নৌ চলাচলে আলোচনার পথ খোলা: আরাঘচি

বিশ্বের জ্বালানি বাজারের চাবিকাঠি এখন ইরানের হাতে

ট্রাম্প ও তাঁর মিত্ররা ছাড়া হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খোলা: ইরান

‘এপস্টেইন গ্যাং’ ৯/১১-এর মতো ঘটনা ঘটিয়ে ইরানকে দায় দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে: লারিজানি

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলে মার্কিন কূটনীতিকদের ভবন

নিশানায় তেল-গ্যাসের চেয়েও জরুরি এক বস্তু, অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্য