ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের অন্তত ১৩১টি শহরে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে আল জাজিরার জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশজুড়ে ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শহরে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে রেড ক্রিসেন্ট। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সারা দেশে এক লাখের বেশি সাড়া-দাতা সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
এ ছাড়া প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি নেটওয়ার্ক প্রস্তুত রয়েছে। তারা মানবিক সহায়তা, জরুরি ত্রাণ এবং মনোসামাজিক সহায়তা দিতে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় আছেন।
এদিকে, আজ সোমবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দুই দিন আগে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশজুড়ে মোট ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, মানবিক সংস্থাটি টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জায়নিস্ট-আমেরিকান সন্ত্রাসী হামলার পর এ পর্যন্ত ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুঃখজনকভাবে আমাদের ৫৫৫ জন স্বদেশি নিহত হয়েছেন।’
অপরদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস—আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা তেল আবিবে একটি সরকারি কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হাইফায় নিরাপত্তা ও সামরিক কেন্দ্রগুলোতে এবং পূর্ব জেরুজালেমে হামলা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দশম দফার এই হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল তেল আবিবে জায়নিস্ট শাসনের সরকারি কমপ্লেক্সে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা, হাইফায় সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত এবং পূর্ব জেরুজালেমে হামলা।’
পূর্ব জেরুজালেম মূলত আরব অধ্যুষিত এলাকা। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ফিলিস্তিনিরা এই অঞ্চল দাবি করে আসছে। ইরান জানিয়েছে, এ হামলায় ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।