যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। মাত্র কয়েক দিন আগেও রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত এক মোড়ে বিশাল ব্যানারে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে’। এটি ছিল নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কঠোর অবস্থানের প্রতীক। কিন্তু পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে সেই অবস্থান এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এই সিদ্ধান্তে ইরানের কট্টরপন্থীরা ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরান যে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে, তা কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও তেহরানে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় আগুন দেয়। বিপ্লবী গার্ড নিয়ন্ত্রিত বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্যরাও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রতিবাদ মিছিল করে।
ইরানের কট্টরপন্থী পত্রিকা ‘কায়হান’-এর সম্পাদক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে ‘শত্রুর জন্য উপহার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে প্রতিপক্ষ আবারও শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন এই কাউন্সিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।
খবরে বলা হচ্ছে, চীনও ইরানকে এই সমঝোতায় রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই যুদ্ধে দেশটির তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে অবকাঠামো রক্ষা ও আরও ধ্বংস এড়াতেই একটি বিরতির প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
ইরান সরকার এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে এবং সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা অতীতে নিষিদ্ধ ছিল। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
তবে সাময়িক এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নয়। আলোচনা ভেঙে গেলে আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। অনেক ইরানির কাছে এটি স্বস্তির নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ হলেও, কট্টরপন্থীদের একাংশ এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে।