হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করার হুমকি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলা চালানো হবে। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আজ রোববার এক্সে দেওয়া মন্তব্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা হলে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস’ হয়ে যেতে পারে।

গালিবাফ লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, পাশাপাশি জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেগুলো অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস করা হবে।’

গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে। এর পরই গালিবাফের এই মন্তব্য এল। গালিবাফ আরও বলেন, ইরানের স্থাপনায় হামলা হলে আঞ্চলিক অবকাঠামো “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হয়ে উঠবে এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে।

এর আগে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে অঞ্চলের সব যুক্তরাষ্ট্র-সংযুক্ত জ্বালানি ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালানোর পর থেকে কার্যত হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। দেশটি দাবি করছে যে—গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ইতিমধ্যেই খোলা আছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ।

আজ রোববার প্রকাশিত ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি বলেন, ‘ইরানের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’ জাহাজ ছাড়া অন্য সব নৌযানের জন্য প্রণালিটি খোলা রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী এই সরু পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৯৭০-এর দশকের পর সবচেয়ে ভয়াবহ তেল সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমেও প্রতিশোধ নিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল, পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ। ইরান বলছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ।’ এতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।

তবে সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটি—যা এখন চতুর্থ সপ্তাহে—বিপজ্জনক নতুন দিকে মোড় নিতে পারে। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বনেতাদের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ শহরে ইরানি হামলার স্থল থেকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সেই দিকে এগোচ্ছে এবং তিনি আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। নেতানিয়াহু ইরানকে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করেন এবং দাবি করেন, ইউরোপের গভীরে দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

এদিকে, রয়টার্সকে তুরস্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে, যাতে যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা যায়।

‘দৈনিক ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার’ অভিযোগে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করল সৌদি আরব

বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরান, তালিকা দিল আইআরজিসি

যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে তুরস্ক

ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনার কাছে ইরানি হামলা: আহত বেড়ে ২০০, গুরুতর অবস্থা ১১ জনের

হরমুজ প্রণালি পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার নিচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে মিথ্যাচার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো

হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সমুদ্রপৃষ্ঠে অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের চমক পানির নিচে

কাতারে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, তুরস্কের ৩ নাগরিকসহ নিহত ৭

আরব সাগরে ব্রিটিশ পারমাণবিক সাবমেরিন, যুক্তরাজ্য কি যুদ্ধে জড়াবে

ইরানি ড্রোন নয়, বাহরাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পেছনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র, বলছেন বিশ্লেষকেরা