হোম > বিশ্ব > এশিয়া

কম্বোডিয়ার বিরোধীদলীয় নেতাকে ক্ষমা করে দিলেন রাজা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কম্বোডিয়ার সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা কেম সোখা। ছবি: এএফপি

কম্বোডিয়ার সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা কেম সোখাকে রাজকীয় ক্ষমা প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তিনি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান হুন সেন রাজা নরোদম সিহামোনির পক্ষে ক্ষমার আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

সোমবার (২৫ মে) বিবিসি জানিয়েছে, কেম সোখা বিলুপ্ত ঘোষিত বিরোধী দল ‘ক্যাম্বোডিয়ান ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টি’ (সিএনআরপি)-এর সাবেক নেতা। ২০১৭ সালে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণতন্ত্রপন্থী কিছু সংগঠনের সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন।

২০২৩ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে কেম সোখা গৃহবন্দী ছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বরাবরই এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করে আসছে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান হুন সেন ফেসবুকে এক পোস্টে জানান—কেম সোখাকে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি এ সংক্রান্ত রাজকীয় আদেশের একটি ছবিও প্রকাশ করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ২০২৩ সালে তাঁর বাবা হুন সেনের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। হুন মানেত বলেন, ‘এই ক্ষমা জাতীয় ঐক্য জোরদারের পথে আরও একটি পদক্ষেপ।’

এর আগে গত মাসে কেম সোখার সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। তবে নতুন ক্ষমার আদেশ পেলেও তাঁর ওপর থাকা পাঁচ বছরের বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ইলাইন পিয়ারসন বলেছেন, ‘আট বছরের বেশি সময় ধরে ইচ্ছাকৃত আটক রাখার পর কেম সোখাকে ক্ষমা দেওয়া বড় ধরনের অন্যায়ের আংশিক সংশোধন। তবে তাকে এখনো রাজনীতি ও বিদেশ সফর থেকে বিরত রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, কম্বোডিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতারা এখনো নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং ভিত্তিহীন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সরকারের উচিত রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে কেম সোখার দল সিএনআরপি হুন সেনের ক্যাম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি (সিপিপি)-কে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে সিপিপির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছিল।

পরবর্তী নির্বাচনের আগে কেম সোখার দল সিএনআরপি ছিল হুন সেনের শাসনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১৭ সালে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিএনআরপি-কে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে কার্যত একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয় কম্বোডিয়া।

২০১৮ সালে কেম সোখার মেয়ে কেম মনোভিথ্যা বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমার বাবাকে মুক্তি দেওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা তখনই তৈরি হবে, যখন তাকে আটক রাখা হুন সেনের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।’

উল্লেখ্য, প্রায় চার দশক কম্বোডিয়া শাসন করা হুন সেনের বিরুদ্ধে বহুবার বিরোধীদের দমনে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও এখনো দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বজায় রেখেছেন। বর্তমানে রাজা নরোদম সিহামোনি বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় হুন সেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া হিমার্স থেকে চীনের দিকে তাইওয়ানের রকেট নিক্ষেপ

২৬ আফগান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের, তালেবান বলছে—নিহতরা বেসামরিক

বর্ষার আগেই সীমান্ত দখলের অভিযান, ভারতের আসিয়ান মহাসড়ক চালুর স্বপ্ন মিয়ানমারের

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৯

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, প্রতিবেশী দেশগুলোতে সুনামি সতর্কতা

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

মিয়ানমারের চীন প্রভাবিত এলাকায় রাশিয়ার টাংস্টেন খনি, নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

‘প্রকৃতিপ্রেমী’ ছেলে জাপানে গিয়ে নিখোঁজ—ফেরত চান মার্কিন মা-বাবা

পাকিস্তান–তুরস্ক সম্পর্ককে সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত হবে না ভারতের: ফিদান

এভারেস্টে নিখোঁজ নেপালি শেরপাকে ৬ দিন পর জীবিত উদ্ধার, বাড়িতে চলছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া