হোম > বিশ্ব > এশিয়া

সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নেপালের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বালেন্দ্র শাহ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান সুশীলা কার্কি। গতকাল রাজধানী কাঠমান্ডুতে। ছবি: এএফপি

রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে নেপালের লাখো মানুষ গত বছর রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সে স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করলেন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহ। রাজধানী কাঠমান্ডুতে প্রেসিডেন্টের বাসভবন শীতল নিবাসে গতকাল শুক্রবার নেপালের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বালেন্দ্র।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর থেকে জানা যায়, গণতান্ত্রিক নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তিনিই প্রথম ‘মাধেশী’ (ভারতের সীমান্তবর্তী নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা), যিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন। র‍্যাপ গানের মাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা বালেন্দ্র মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত সেপ্টেম্বরে দেশে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি হয়। এরপর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন সরকারপ্রধান কেপি শর্মা অলি। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার নেপালের ক্ষমতা গ্রহণ করে। তাঁদের তত্ত্বাবধানে ৫ মার্চ আয়োজিত হয় সাধারণ নির্বাচন। এতে পার্লামেন্টের ২৭৫টির মধ্যে ১৮২টি আসন জিতে নেয় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। এই দল থেকেই নির্বাচনে লড়েছিলেন বালেন্দ্র।

নেপালের সর্বশেষ নির্বাচনে ছিল তারুণ্যের দাপট। অভ্যুত্থানকারীদের সমর্থন দেওয়া দল আরএসপি মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস পার্টি যদিও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, তাদের ঝুলিতে আছে মাত্র ৩৮টি আসন। আর সাবেক ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল পেয়েছে ২৫টি আসন।

তবে তারুণ্যের জোয়ারে ভর করে বালেন্দ্র মসনদে তো বসলেন, তাঁর সামনে রয়েছে অগ্নিপরীক্ষা। ১৯৯০ সালের পর থেকে ৩৬ বছরে ৩২ বার সরকার বদল হয়েছে নেপালে। তিন কোটি মানুষের দেশটিতে বেকারত্বের হার বেশ চড়া। আর রয়েছে লাগামহীন দুর্নীতি। ধারণা করা হয়, দুর্নীতি ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার নেপালি দেশ ছাড়েন।

এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে উদ্যোগ নেওয়ার মতো কঠিন পরীক্ষায় পাস করতে হবে বালেন্দ্রকে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ পূর্নজন আচার্য বলেন, স্বচ্ছতা এবং ঠিকঠাক জনসেবা প্রদান হবে নতুন সরকারের প্রথম পরীক্ষা। জনগণ রোববার (আগামীকাল) থেকেই এমন লক্ষণ দেখতে চায়, যাতে বোঝা যায় সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে গত বছরের সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের ওপর একটি স্বচ্ছ তদন্তের ব্যবস্থা করা।

নিজেকে সব সময় ব্যক্তিক্রম দেখানোর একটি প্রবণতা আছে বালেন্দ্রর। গতকাল শুক্রবার শপথ গ্রহণেও এর ছাপ রেখেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বাসভবনে শপথ নিতে যান তাঁর স্বভাবসুলভ ফ্যাশনে। এখন দেখার বিষয়, দেশ পরিচালনায় তিনি নতুনত্ব আনতে পারেন কি না।

ফিলিস্তিনপন্থী মালয়েশিয়ার স্কলার ফিকরিকে ঢুকতে দিল না সিঙ্গাপুর

কিমকে রাইফেল উপহার দিয়ে লুকাশেঙ্কো বললেন—শত্রু এলে কাজে লাগবে

বৈধ ভিসা থাকলেও আগামী ৬ মাস অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না ইরানি পর্যটকেরা

এবার জ্বালানি সংকটে ‘করোনার পরিস্থিতি’ হতে পারে এশিয়াজুড়ে

ফিলিপাইনে ১ বছরের জন্য ‘জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ জারি

তুরস্কের জলসীমায় গোলাবারুদভর্তি মার্কিন ড্রোন ডুবোযান

ইরানের বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে রাশিয়া: পুতিন

কিমের কিশোরী কন্যা এবার ট্যাংক চালাল

পূর্ব চীন সাগরে হাজারো জাহাজের রহস্যময় ‘মহড়া’

৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত কিম জং-উন, বাকিটা ‘না’ ভোট