অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দেশটির সবচেয়ে সম্মানিত জীবিত সেনাদের একজন বেন রবার্টস-স্মিথের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ৭ এপ্রিল সিডনি বিমানবন্দরে অবতরণের পর রবার্টস-স্মিথকে শান্তভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
রবার্টস-স্মিথ একসময় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে সাহসিকতার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ভিক্টোরিয়া ক্রস পান। ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি জনপ্রিয়তা, সম্মাননা এবং বিভিন্ন পেশাগত সুযোগ পান। কিন্তু ২০১৮ সালে সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হয়—তিনি নিরস্ত্র আফগান বন্দিদের হত্যা, সহকর্মীদের নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত জীবনে সহিংস আচরণের সঙ্গে যুক্ত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মানহানির মামলা করেছিলেন রবার্টস-স্মিথ। এই মামলাটি প্রায় সাত বছর ধরে চলে এবং ব্যাপক আলোচিত হয়। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কোর্ট রায় দেন—তাঁর বিরুদ্ধে চারটি হত্যার অভিযোগ ‘সত্য’। তবে কিছু অভিযোগ খারিজও হয়। এই রায়টি রবার্টস-স্মিথের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হানে। এখন ফৌজদারি আদালতে নতুন করে এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
এই মামলাটি শুধু একজন ব্যক্তির বিচার নয়, বরং আফগানিস্তানে অস্ট্রেলীয় বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের আত্মসমালোচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা অন্তত ৩৯ জনকে অবৈধভাবে হত্যা করেছে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তটি পরিচালনা করছে বিশেষ সংস্থা ওএসআই। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘটিত অপরাধ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। ঘটনাস্থলে সরাসরি যাওয়া সম্ভব নয়, পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই এবং সাক্ষীদের অনেকেই দূরবর্তী আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন। ফলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা বিশ্বে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এত উচ্চ সম্মানপ্রাপ্ত কোনো সৈনিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা অত্যন্ত বিরল।