হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: শাহেদ ড্রোনের ওপর ইরানের বাজি

সুদীপ্ত নূরুল কবীর, ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের সঙ্গে প্রথাগত যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা নেই ইরানের। তারা কাজে লাগাচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধকালে ব্যাপক আলোচনায় আসা যুদ্ধকৌশল ‘নিবৃত্তকরণ’। যদি বর্তমান ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতির আশঙ্কা হিসাব করে প্রতিপক্ষ পিছিয়ে যায়, তবেই এ কৌশল সফল হয়। স্নায়ুযুদ্ধকালে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো এই কৌশল ব্যবহার করেছে। ইরানের বর্তমান যুদ্ধকৌশলে নিবৃত্তকরণ প্রয়োগের চেষ্টার একটি আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর এই কৌশলের তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে ইরানের শাহেদ ড্রোন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শাহেদ ড্রোন দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে, এরপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালাতে পারে ইরান।

গত সপ্তাহে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী। এর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। এসব হামলায় দেশগুলোর এখনো ব্যাপক ক্ষতি না হলেও ইরানের হামলা ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফুরিয়ে আসছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকি বাড়ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তির আশীর্বাদে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পর্যন্ত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোনের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারছে। তবে হামলার তীব্রতায় কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের অস্ত্রের মজুতে মারাত্মক চাপ পড়েছে। কারণ, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো শতকোটি ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি ব্যালিস্টিক বা ড্রোন ঠেকাতে দু-তিনটি ইনটারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত হেনে ধ্বংস করে যে গোলা) প্রয়োজন হয়। সিএনএন জানায়, গত বুধবার পর্যন্ত শুধু শাহেদ মডেলেরই অন্তত দুই হাজার ড্রোন ছুড়েছে ইরান।

চলমান যুদ্ধে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে এই শাহেদ ড্রোন। এটি একমুখী হামলা ড্রোন, অর্থাৎ এটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো শুধু একবারই ছুড়ে মারা হয়, নিক্ষেপের পর বারবার নিয়ন্ত্রণ করা বা নিক্ষেপস্থলে ফিরিয়ে আনা যায় না। এটি ‘কামিকাজে’ ধরনের অস্ত্র, যা সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আছড়ে পড়ে। শাহেদের অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি তুলনামূলক কম খরচে ব্যাপক হারে উৎপাদন করা যায়। অনেকে এটিকে গরিবের ‘ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ বলে থাকেন।

সিএনবিসি নিউজ জানায়, একটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে গড়ে খরচ হয় ২০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, একটি সাধারণ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হয়। আর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একেকটি ইন্টারসেপ্টর তৈরিতে খরচ হয় ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি মার্কিন ডলার।

বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, সপ্তাহে হাজারখানেক ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। তাদের যুদ্ধকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, ঝাঁকে ঝাঁকে শাহেদ ড্রোন কোনো লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে যেকোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হতে থাকে। কেননা, যত কম সময় এবং

খরচে শাহেদ তৈরি করা যায়, ইন্টারসেপ্টর তৈরির সময় ও ব্যয়—দুটোই অনেক বেশি।

ইরান যদি উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার এই তীব্রতা অব্যাহত রাখে, তাহলে শিগগির হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাবে দেশগুলো। দ্য টেলিগ্রাফকে এ বিষয়ে ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ান হফম্যান বলেছেন, ইরানের হামলা ঠেকাতে প্রচুর ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। প্রতিরোধের এ ধারা বেশি দিন বজায় রাখা যাবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। তবে হফম্যানের দাবি, ইউএইর কাছে হাজারখানেক ইনটারসেপ্টর রয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের কাছে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৫০০ ও ১০০টি।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে এখনো দুই হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরানের ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একেবারে ধসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে ইরান। এরপর শুরু হতে পারে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এ বিষয়ে মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিসের বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিসজা বাজিলজিক বলেছেন, শাহেদ ড্রোন হচ্ছে সস্তা ধরনের অস্ত্র। এখানে কৌশলটা হচ্ছে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রোন হামলা চালিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। অবশ্য, ইরান কত দিন এভাবে ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখতে পারবে, তা নির্ভর করবে তাদের কাঁচামালের বর্তমান মজুত এবং সরবরাহের ওপর।

বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রকে টেক্কা দিয়ে তাদের পর্যাপ্ত ক্ষতি করার ক্ষমতা ইরানের নেই। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে জর্জরিত থাকায় তাদের পক্ষে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করাও ছিল দুষ্কর। এ ছাড়া মার্কিন মূল ভূখণ্ড তাদের হামলার আওতার বাইরে। তাই মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। ইরানের সমরবিদেরা ধারণা করছেন, এভাবে মিত্রদের যথেষ্ট চাপে রাখলে মার্কিন জোটকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করা যাবে। তবে সে সময় আসার আগপর্যন্ত টিকে থাকা হবে ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরানে গণতন্ত্র না এলেও আপত্তি নেই ট্রাম্পের, পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা

ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দিল ভারত

প্রতিবেশী দেশে আর হামলা নয়, ক্ষমাও চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

ইরান হামলা: ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ থাকছে না ইন্দোনেশিয়া

র‌্যাপার থেকে মেয়র, এবার কি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বালেন শাহ

কিলার রোবটদের রণক্ষেত্র হয়ে উঠছে ইউক্রেন

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান, হামলা কি রাতেই

ট্রাম্পের মন্তব্যকে বিদ্রূপ করছেন ইরানি কর্মকর্তারা

মাটির নিচে বন্দিদশায় ইসরায়েলিদের দিন

ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন যে কারণে সতর্ক