দেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ডা. খালেদ আহমেদুর রহমান।
এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি সমন্বিত ১৭ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ পুলিশ’ গঠন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালীকরণ, হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় মামলা বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম চালুর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন, শূন্যপদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনভিত্তিক নতুন পদ সৃষ্টি, ন্যায়ভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ‘কোড ব্লু’ সেবা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সংগঠনটি আরও দাবি জানায়, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ঝুঁকি ভাতা, ঈদসহ সরকারি ছুটিতে দায়িত্ব পালনকারীদের বিশেষ ভাতা, ন্যায়সঙ্গত ছুটি ব্যবস্থাপনা এবং দেশ-বিদেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি নিয়ন্ত্রণ, বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসকের দৈনিক রোগী দেখার যৌক্তিক সীমা নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক পদায়ন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে তথ্যের যথার্থতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, আধুনিক, মানবিক ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করে, সরকার স্বাস্থ্যখাতের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে সংগঠনটির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করবে। একই সঙ্গে দেশের জনগণের জন্য উন্নত, সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তারা সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডা. মির্জ্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম, আন্তঃক্যাডার সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি, প্লাটফর্মের প্রতিনিধি।