বটতলা নাট্যদলের ‘খনা’ নাটকের প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ২০১০ সালের ৮ মার্চ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। দেখতে দেখতে শততম প্রদর্শনীর দ্বারপ্রান্তে খনা। প্রথম প্রদর্শনীর মতো খনার শততম প্রদর্শনীর জন্যও শহীদ মিনারকে বেছে নিয়েছে বটতলা। আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে খনার শততম প্রদর্শনী। এ উপলক্ষে ১০ ও ১১ এপ্রিল শহীদ মিনারে দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করেছে বটতলা নাট্যদল।
বটতলা জানিয়েছে, ১০ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে বিষমুক্ত কৃষিপণ্যের মেলা। দিনব্যাপী এই মেলায় পাওয়া যাবে সারা দেশ থেকে আগত সারবিহীন বিভিন্ন কৃষি খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া থাকছে মাটির পাঠশালা। এতে শিশুদের মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি শেখানো হবে। আরও রয়েছে শিশুদের দলীয় পরিবেশনা। বিকেলে থাকছে যন্ত্রসংগীত পরিবেশনা, ব্রতচারী নৃত্য, বিভিন্ন নাটকের দলের গানের পরিবেশনা, লাঠি খেলা ও ধুয়া গানের আসর।
১১ এপ্রিল সকালে থাকবে বিষমুক্ত কৃষিপণ্যের মেলা। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে খনা নাটকের শততম প্রদর্শনী। প্রদর্শনী শেষে নাটকটির সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া দুই দিন দেখা যাবে ‘দর্শকের ক্যামেরায় খনা’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এতে থাকবে দর্শকের ক্যামেরায় তোলা খনা নাটকের বিভিন্ন প্রদর্শনীর ছবি। এই প্রদর্শনীতে সেরা ১০ ছবিকে দেওয়া হবে পুরস্কার।
খনা এমন এক নাটক, যা নারীর অধিকার ও শ্রেণিবৈষম্যের প্রশ্নকে সামনে আনে। গল্পটা ১ হাজার ৫০০ বছর আগের হলেও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ঘরের বাইরে পা ফেলা নারীর প্রথম বাধা যে ঘরের ভেতর থেকেই আসে, তা-ই ফুটে উঠেছে এই নাট্যকাহিনিতে। প্রজন্মান্তরে চলা যে কৃষিজ্ঞান ও প্রজ্ঞা খনার নামে বহমান, সেই গল্প খোঁজা হয়েছে এতে। পাশাপাশি খনা তার জীবনের নানা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এক অন্য সত্যের মুখে দাঁড় করায় দর্শকদের। নাটকটি লিখেছেন সামিনা লুৎফা নিত্রা। নির্দেশনায় মোহাম্মদ আলী হায়দার।
খনার শততম প্রদর্শনী নিয়ে নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, ‘খনার শততম প্রদর্শনী নিয়ে আমরা সবাই খুব উত্তেজিত। নাটকটি আমরা শুরু করেছিলাম শহীদ মিনারে, যাতে সব দর্শক দেখতে পারে। ওই জায়গাতেই সব শ্রেণির দর্শকের কাছে ১০০তম প্রদর্শনী নিয়ে হাজির হচ্ছি। খনা নিয়ে আমাদের অনেক দিনের জার্নি। অনেক স্মৃতি।’
খনা নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী রোকসানা রুমা, ইভান রিয়াজ, ইমরান খান মুন্না, তৌফিক হাসান, মিজানুর রহমান, শেউতি শাহগুফতা, কামারুজ্জামান সাঈদ, হাফিজা আক্তার, চন্দন পাল, আবদুল কাদের প্রমুখ।