অটিজম ও এডিএইচডি আক্রান্ত ছেলে ক্রিস্টান রবার্টসকে একটি সুন্দর জীবন দিতে তিনি নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে কম বেতনের চাকরি নিয়েছিলেন মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস, যাতে ছেলেকে বেশি সময় দিতে পারেন। কিন্তু সেই ছেলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইন চ্যাট প্ল্যাটফর্ম ‘ডিসকর্ড’-এর বিষাক্ত প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে নিজের মাকে হত্যার এক লোমহর্ষক নীলনকশা তৈরি করেন।
তদন্তে জানা গেছে, ক্রিস্টান দিনের দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটাতেন, যেখানে তিনি সিরিয়াল কিলার ও গণহত্যাকারীদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি ‘ডিপসিক’ নামের একটি এআই টুল ব্যবহার করে জানতে চেয়েছিলেন, একজন অনভিজ্ঞ খুনি হিসেবে তাঁর কোন অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত এবং খুনের আলামত কীভাবে মুছে ফেলা যায়। যদিও এআই শুরুতে তাঁকে উত্তর দিতে অস্বীকার করেছিল, কিন্তু ক্রিস্টান মিথ্যা বলেন যে, তিনি একটি বই লিখছেন। এরপর এআই তাঁকে হাতুড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
গত বছরের অক্টোবর মাসে ক্রিস্টানের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার কয়েকদিন পরেই তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। তিনি অ্যামাজন থেকে ২০ পাউন্ড দিয়ে একটি ছোট ‘স্লেজহ্যামার’ (হাতুড়ি) কেনেন। তাঁর মা পায়ের চোটের কারণে ক্রাচ ব্যবহার করতেন। ২৩ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে শুরু করে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে তিনি তাঁর মায়ের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালান। তিনি তাঁর মাকে নিজের ঘরে বন্দী করে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন এবং শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন।
অ্যাঞ্জেলা তাঁর ছেলের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন, এমনকি বলেছিলেন, ক্রিস্টান তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি পুলিশকে বলবেন—ক্রিস্টান জানতেন না তিনি কী করছেন। কিন্তু মায়ের এমন মমতায় গলেনি ক্রিস্টানের মন। তিনি মাকে ভুল বুঝিয়ে বাড়ি থেকে বের করে একটি নির্জন প্রাকৃতিক উদ্যানে নিয়ে যান এবং সেখানে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
ক্রিস্টান এই পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেছিলেন এবং ডিসকর্ডে ১৬টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁর খুনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি খুনের পর তিনি অনলাইনে লেখেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে পাগলাটে দিন কাটল।’ তিনি তাঁর মায়ের ফোন ব্যবহার করে তাঁর বড় ভাই ইথানকে মেসেজ পাঠিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে—মা বেঁচে আছেন। ইথান যখন সন্দেহ করে মেসেজ পাঠান, ‘মা তুমি কি বেঁচে আছ?’ ক্রিস্টান তাঁর মায়ের পরিচয় দিয়ে হাসির ইমোজি পাঠিয়ে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, মনে হয় বেঁচে আছি।’
গতকাল বুধবারের রায়ে যুক্তরাজ্যের আদালত ক্রিস্টান রবার্টসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতে ক্রিস্টানের বড় ভাই ইথান বলেন, ‘মা কখনোই ওর ওপর আশা ছাড়েননি। যে মানুষটা ওর জন্য সবকিছু করতে পারতেন, সে কীভাবে তাঁর সঙ্গে এমন করতে পারল?’
অ্যাঞ্জেলার বোন সারা গুন্থার বলেন, ‘আমার বোনকে একজন এমন মা হিসেবে মনে রাখা হোক, যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হার মানেননি।’