হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১১৫ ডলার, এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে শুরু করায় উত্তেজনা দেখা গেছে তেলের বিশ্ববাজারে। আজ সোমবার সকালে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে দরপতন হয়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। লেনদেন শুরুর পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার (৮৬.৭৭ পাউন্ড) ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে এক মাসে সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে ব্রেন্ট ক্রুড।

এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪.৫ শতাংশ কমেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ শতাংশ নেমে গেছে।

এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের বিস্তার। গত সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে সরাসরি এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়া ইরান হুমকি দিয়েছে যে, তারা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বাসভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পাল্টা হামলা চালাবে।

রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের তেল ‘দখল’ করতে পারেন এবং দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন।

দ্বীপটিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।’

এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেন। গত জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প অনির্দিষ্টকালের জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গত সপ্তাহান্তেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। এমন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরান যখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে আক্রমণের হুমকি দিয়েছে, তখন থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই পথে চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় হু হু করে দাম বাড়ছে।

ম্যাককুয়ারি ইউনিভার্সিটির জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞ শন ফলি বলেন, যুদ্ধের উত্তেজনা না কমলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফলি আরও জানান, হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ইয়েমেন সংলগ্ন বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই জলপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে বিশ্বের আরও ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার। ১৮ মার্চ এই দাম বেড়ে ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

আবারও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সর্বাধিক মূল্যস্ফীতি হবে দ. এশিয়ায়, কমবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও: এডিবি

দাম বাড়ায় জেট ফুয়েল মজুতের প্রবণতা বাড়ছে এশিয়াজুড়ে

সোনার দাম দীর্ঘমেয়াদি পতনে যাচ্ছে

ট্রাম্পের ঘোষণার ১৫ মিনিট আগে তেলের বাজারে ৫০ কোটি ডলারের বাজি!

ইরানি তেলে ৩০ দিনের ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের, তেহরানের সঙ্গে চুক্তির পথে চীন

জ্বালানি সংকট এখন ইতিহাসের ৩ বৃহত্তম সংকটের সম্মিলিত আকারের চেয়েও বড়

ইরান যুদ্ধ: কোন দেশগুলোর অর্থনীতি সর্বাধিক ক্ষতির মুখে, নাজুক অবস্থানে কারা

হরমুজ বন্ধ করে ১০ কোটি মানুষের রুটি-রুজিতেও হাত দিয়েছে ইরান

গ্যাস-সংকটে রান্না বন্ধ: ভারতে দলে দলে বাড়ি ফিরছেন পোশাকশ্রমিকেরা