ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের পকেটেও টান ধরিয়ে দিয়েছে। আমেরিকার খুচরা বাজারে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৯ সেন্ট বেড়ে ৩.৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) সর্বশেষ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহে গ্যাসের গড় দাম বেড়েছে ৪৩ সেন্ট। ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন আক্রমণ করায় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর এটিই এক সপ্তাহে তেলের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় রেকর্ড।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ইরানে চলমান যুদ্ধ; দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশই এই চ্যানেল দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তৃতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর তেলের স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রেও ইরান আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।
গত পাঁচ দিনে তেলের দাম প্রতিদিন গড়ে ৫ সেন্ট বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মঙ্গলবার এক দিনেই দাম বেড়েছিল ১১.২ সেন্ট, যা ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পরবর্তী সময়ে এক দিনে তেলের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড।
গ্যাসের তুলনায় ডিজেলের দাম বাড়ছে আরও দ্রুতগতিতে। আজকের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে ডিজেলের দাম ১৮ সেন্ট বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪.৫১ ডলারে ঠেকেছে। গত এক সপ্তাহে ডিজেলের দাম বেড়েছে মোট ৭৫ সেন্ট।
আগামী দিনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১২.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০.৯০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ২০২০ সালে কোভিডের পর এক দিনে তেলের দাম বাড়ার এটিই বড় রেকর্ড। পুরো সপ্তাহে এই দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, যা ১৯৮৩ সালের পর এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের চুক্তিতে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি।