হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বাড়ল আরও ৪ ডলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

তেলের দামে আজ সোমবার বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের জবাব ‘অগ্রহণযোগ্য’। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এখনো বড় অংশে কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ-সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার, অর্থাৎ যে তেল ভবিষ্যতের কোনো একসময়ে সরবরাহ করা হবে, তার দাম ৪ দশমিক ১৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে এই দাম রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৮ ডলার বা ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৮০ ডলার।

এর আগের সপ্তাহে উভয় সূচকেই সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় ৬ শতাংশ দরপতন হয়েছিল। কারণ, প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। সেই সংঘাতের অবসান হলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আবার স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেবা বলেন, ‘তেলের বাজার এখন পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক শিরোনামনির্ভর যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে আসা প্রতিটি মন্তব্য, প্রত্যাখ্যান কিংবা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে দাম তীব্রভাবে ওঠানামা করছে।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প আগামী বুধবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, ‘এখন বাজারের সব মনোযোগ এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের দিকে চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে আশা তৈরি হয়েছে যে ট্রাম্প হয়তো বেইজিংকে প্রভাব খাটাতে রাজি করাতে পারবেন, যাতে চীন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার সমাধানের পথ তৈরি করে।’

এদিকে, সৌদি আররে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের গতকাল রোববার বলেন, গত দুই মাসে বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল হারিয়ে গেছে। এমনকি তেল সরবরাহ আবার শুরু হলেও জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলবাহী আরও দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে ইরানি হামলা এড়াতে তারা নিজেদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখেছিল। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি সচল রাখতে এমন পদ্ধতি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আইএনজির বিশ্লেষকেরা আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তীব্র তেল-সংকট কিছুটা কমে এলেও হরমুজ প্রণালিতে আবারও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি, কমে যাওয়া মজুত এবং দুর্বল নীতিগত সমন্বয়ের কারণে বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত মূল্য চাপ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকবে।’ তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। আর ২০২৭ সালে চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করা এবং মজুত ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত হওয়ার কারণে দাম ৮০ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

পাম্প থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি কেনায় নিষেধাজ্ঞা ভারতের, নেপথ্যে কী

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর আরও ১০–১২.৫% শুল্কারোপের পাঁয়তারা যুক্তরাষ্ট্রের

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, তেলের দাম বাড়ল আরও ১ শতাংশের বেশি

ভারত-ওমান বাণিজ্য চুক্তি যেভাবে হরমুজের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় আরও কমল তেলের দাম, চাঙা বিশ্ববাজার

ভারতীয় আম আমদানি নিষিদ্ধ করল জাপান, লোকসানের মুখে চাষিরা

ইরানের পাল্টা হামলার পর বেড়েছে তেলের দাম

পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি, দাম বেঁধে দিল ভারত সরকার

ভারতে ৩ কোটি ব্যারেল তেল রাখবে আরব আমিরাত, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে ৫ বিলিয়ন ডলার