মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ইউরোজোনের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। মার্চে অঞ্চলটির মূল্যস্ফীতি হঠাৎ লাফিয়ে বেড়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে মার্চে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
এই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি জ্বালানি খাত। কয়েক মাস ধরে কমতে থাকা জ্বালানি ব্যয় মার্চে উল্টো ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা, যা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করে বলেছে, অঞ্চলটি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ ঝুঁকিতে পড়ছে—অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বাড়লেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতির ফলে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসিবি চলতি বছর সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্যবাদে মূল মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে, তবুও সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনকই থাকছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ বলছে, বছরের শেষে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ইসিবিকে অন্তত সীমিত পরিসরে সুদ বাড়াতে বাধ্য করবে। অন্যদিকে, মুডিস অ্যানালিটিকস জুনে এক দফা সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে, যদিও পরবর্তী পদক্ষেপ অনিশ্চিত।
ইউরোজোনের প্রধান দুই অর্থনীতি জার্মানি ও ফ্রান্সেও মূল্যস্ফীতি দ্রুত বেড়েছে। জার্মানিতে ২ দশমিক ৮ শতাংশে এবং ফ্রান্সে ১ দশমকি ৯ শতাংশে পৌঁছেছে—যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
খাদ্য, মদ ও তামাক খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও (২ দশমিক ৪ শতাংশ), জ্বালানি খাতের ধাক্কা সামগ্রিক মূল্যস্তরকে ওপরে ঠেলে দিয়েছে।