রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে সাতমাথা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহনের চালক ও যাত্রী এবং পথচারীদের। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে আছে। এসব স্থানে যানবাহন চলাচল করছে অত্যন্ত ধীর গতিতে ও ঝুঁকি নিয়ে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
সড়কটির আশপাশের বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসাসেবা নেওয়াসহ নানা প্রয়োজনে হাজারো মানুষ রংপুর নগরীতে যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থায় সবাইকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ওই সড়কে নিয়মিত রিকশা চালান ইয়াছিন আলী। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই কোনো না কোনো রিকশা উল্টে যাচ্ছে, মোটরসাইকেল অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে। গর্তের জন্য ২০ মিনিটের রাস্তা এক ঘণ্টায়ও যাওয়া যাচ্ছে না। বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ সড়কটির দিকে তাকাচ্ছে না। আমাদের মন চায় না এই সড়কে চলাচল করতে, নিরুপায় হয়ে চলতে হয়।’
পূর্ব কামালকাছনা এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।’
সড়কের বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয়রা গত বছর একাধিকবার বিক্ষোভ, মানববন্ধন, এমনকি গায়েবানা জানাজা ও সড়কে ধান রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সর্বশেষ গত বুধবারও তাঁরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ করেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি রংপুর মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহম্মদ নাজিমুজ্জামান হৃদয় বলেন, ‘এই সড়ক সংস্কারের জন্য আমরা গত বছরের জুন-জুলাইয়ে সিটি করপোরেশনের গায়েবানা জানাজা করেছি, কফিন মিছিল করেছি, শেষ পর্যন্ত এই সড়কে ধান রোপণ করেও প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু পুরো সড়ক স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। তাই আমরা গত বুধবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে আবারও রাস্তায় দাঁড়িয়েছি, যাতে সড়কটি দ্রুত সঠিকভাবে মেরামত করা হয়।’
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী বলেন, ওই রাস্তা নিজস্ব ইকুইপমেন্ট দিয়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করা হয়েছে। এবার ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে। মূল্যায়ন চলছে, এরপর কাজ শুরু হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর সভাপতি জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, নিম্নমানের কাজ ও যথাযথ তদারকির অভাবেই দ্রুত সড়কটি নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ হেভিওয়েট যানবাহন চলাচলের কারণেও ক্ষতি বাড়ছে। দ্রুত মানসম্মত সংস্কার না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।