পাবনার গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের পৈতৃক বাড়িতে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কেক কেটে দিনটি উদ্যাপন করেন সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাম দুলাল ভৌমিকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের উপদেষ্টা কৃষিবিদ জাফর সাদেক, দপ্তর সম্পাদক শিশির ইসলাম ও কানিজ ফাতেমা। সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ মধু।
উপস্থিত ছিলেন পাবনা জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অরূপ কুমার কণ্ডু; সাংবাদিক প্রবীর সাহা, মাসুদ রানা ও সেলিম মোর্শেদ রানা; সাংস্কৃতিক কর্মী হাসান মাহমুদ, সাবেরা সুলতানা, ফজলুল হক সুমন প্রমুখ।
সভায় মহানায়িকার বাড়িতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে না ওঠায় হতাশা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বাড়িটিতে এখনো সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করার কোনো কাজ হয়নি। দিন দিন বিষয়টি স্তিমিত হয়ে পড়ছে। দ্রুত সুচিত্রা সেনের বাড়িটি আন্তর্জাতিক মানের সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি এই মহানায়িকা। অনন্য অভিনয়ের কারণে আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে সমুজ্জ্বল সুচিত্রা সেন। বাংলা সিনেমাকে তিনি নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
সুচিত্রা সেনের প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। পাবনা শহরের বাড়িতে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। বাবা ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ও মা ইন্দিরা দেবীর পঞ্চম সন্তান ছিলেন সুচিত্রা সেন।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি। বড় পর্দায় সুচিত্রার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। সব মিলিয়ে ৬০টি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ৫৩টি ও হিন্দি সাতটি সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে।
কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন ৮২ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে পরলোকগমন করেন।