নাটোরের লালপুরে আধুনিক যানবাহনের পরিবর্তে ঘোড়া, মহিষ ও গরুর গাড়িতে কনের বাড়িতে গেছেন বরযাত্রীরা। ২৪ মার্চ দুপুরে উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রাম থেকে বরযাত্রীরা একই উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের সালামপুর গ্রামে কনেবাড়িতে যান। বরযাত্রীদের ব্যতিক্রমী গাড়িবহর দেখতে রাস্তায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে।
জানা গেছে, বর আব্দুলপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে বাঁধন। তিনি রাজশাহীর একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। কনে মেহেরুন্নেছা মৌও একই প্রতিষ্ঠানে পড়েন। সহপাঠী থেকে দুজনের সম্পর্ক গড়ায় প্রণয়ে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়েতে তাঁরা গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। বিয়েতে বরযাত্রা যাওয়ার জন্য আধুনিক যানবাহনের পরিবর্তে ১০টি গরু ও মহিষের গাড়ি এবং একটি ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি গাড়ি সাজানো হয়েছে রঙিন মোড়কে। বরযাত্রীদের এই ব্যতিক্রমী আগমনে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামের মানুষ ভিড় জমান এই দৃশ্য দেখার জন্য। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই উপভোগ করে এই অনন্য আয়োজন।
বর বাঁধন বলেন, ‘আমরা দুজনই গ্রামের ছেলেমেয়ে। তাই গ্রামের ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছি। যান্ত্রিকতাকে উপেক্ষা করেছি। যদিও গরু-মহিষের গাড়ি পাওয়া অনেক কঠিন ছিল।’
কনে মেহেরুন্নেছা মৌ বলেন, ‘ব্যতিক্রমী বরযাত্রায় আমি ভীষণ খুশি। আমার বাবা-মাও বিয়ের সময় গরু-মহিষের গাড়িতে চড়েছিলেন।’
স্থানীয় লোকজন জানান, এমন দৃশ্য তাঁরা বহু বছর পর দেখলেন। এমন বিয়ের আয়োজন গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি সুন্দর উদ্যোগ। বিয়ের আয়োজনজুড়ে ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া। লোকজ পরিবেশ ও পারিবারিক উষ্ণতায় ভরপুর ছিল পুরো অনুষ্ঠান।