হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাদ্যসংকটে প্রাণী, পর্যটকের অপেক্ষায় বানর

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টারের টিনের চালের ওপর মলিন মুখে বানরের দল। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। আজকের পত্রিকা

শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাদ্যসংকটে পড়েছে বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী। উদ্যানে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা বিভিন্ন সময় বানরদের কলাসহ বিভিন্ন খাবার দিয়ে থাকেন। কিন্তু রমজান মাসে উদ্যানে পর্যটক এসেছেন খুবই কমসংখ্যক। ফলে পর্যাপ্ত খাদ্য না পেয়ে ক্ষুধা পেটে থাকতে হচ্ছে বানরদের— এমনটাই জানিয়েছেন বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে আগামীকাল শনিবার থেকে উদ্যানে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়বে এবং বানরেরও খাদ্যসংকট কিছুটা কমবে। এ ছাড়া বৃষ্টি শুরু হলে উদ্যানে বিভিন্ন গাছে ফল ধরবে, গাছে লতাপাতা গজাবে। তখন প্রাণীদের খাদ্যসংকট অনেকটাই কমে যাবে।

সম্প্রতি উদ্যানের গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে বানরের একটি দল ক্ষুধা নিয়ে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে। সবগুলোরই মুখ মলিন। ফটকের সামনে কয়েকজন পর্যটক ছবি তুলছেন। তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে বানরের দলটি। তবে রমজান মাস হওয়ায় পর্যটকেরা সঙ্গে করে খাবার নিয়ে আসেননি। বিষয়টি দেখে বানরের দলটি মলিন হয়ে বসে আছে টিকিট কাউন্টারের টিনের চালের ওপর। পাশে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু দোকান রয়েছে উদ্যানে। তবে তা বন্ধ। পরে সেখানে বনকর্মীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে খাদ্যসংকটের কথা জানা গেল।

জাতীয় উদ্যানের কয়েকজন বনকর্মী বলেন, এই বানরের দল সব সময় সামনে থাকে। কেউ খাবার দিলে এগিয়ে এসে নিয়ে নেয়। কলা তাদের খুবই প্রিয় খাবার। তবে রমজান মাসে তাদের খাবারের অনেক কষ্ট হয়েছে। কারণ, অল্পসংখ্যক পর্যটক এলেও কেউ খাবার নিয়ে আসেন না। ফলে নিরাশ হয়ে মূল ফটকের আশপাশে সব সময় ঘোরাঘুরি করে বানরের দলটি।

রমজানে শেষ দিকে ঘুরতে আশা স্থানীয় পর্যটক হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, ‘বিকেলে একটু ঘুরতে এসেছি বনে। রমজানে বনের নীরবতা খুবই ভালো লাগে। বনে পর্যটক কম এলে বনের এই নীরবতা প্রাণীদের জন্য খুবই ভালো। বানরের দল আমার দিকে তাকিয়ে আছে খাবারের জন্য। তবে তাদের দেওয়ার মতো আমর কাছে কিছুই নেই।’

জানা গেছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বানরের একটি দল বেশির ভাগ সময় লাউয়াছড়া উদ্যানের মূল ফটকের আশপাশে থাকায় পর্যটক খাবার দিয়ে থাকেন। এখন পর্যটক কম। তাই তারা খাবারের অপেক্ষা করে। গত কয়েক দিন বৃষ্টি হয়েছে। উদ্যানে নতুন লতাপাতা গজাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ফল গাছে মুকুল এসেছে। কিছুদিন পর এসব বানরসহ বন্য প্রাণীদের খাবারের সংকট থাকবে না।’

মৌলভীবাজারে সাধ্যের বাইরে গরুর মাংসের দাম

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ

চলন্ত অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে নিহত ১, আহত ২

মৌলভীবাজারে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে অভিযান

দুই দিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে চা-বাগান ও বোরোখেতে

মৌলভীবাজারে বড় ভাইয়ের হাতে যুবক খুন

কমলগঞ্জে নারী অপহরণচেষ্টার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ তদারকিতে যুগ্ম সচিবদের নেতৃত্বে ছয়টি টিম গঠন

পরিস্থিতি খারাপ হলে প্রবাসীদের দেশে আনার প্রস্তুতি রয়েছে: মন্ত্রী আরিফুল হক

ইফতারি: আখনি ছাড়া চলেই না