মেহেরপুরের গাংনীতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি তেলের জন্য ট্রাক্টরেরও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোর থেকেই ট্রাক্টরচালকেরা তেলের অপেক্ষায় পাম্পে অবস্থান করছেন। তেল পেলেই মাঠে নেমে জমি চাষ করার প্রস্তুতি রয়েছে তাঁদের। তবে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় ঠিকমতো জমি চাষ করতে পারছেন না তাঁরা।
ট্রাক্টরচালকদের অভিযোগ, যেখানে তাঁদের ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন, সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ লিটার। এতে নির্ধারিত সময়ে জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।
ট্রাক্টরচালকেরা জানান, সকাল থেকে তাঁরা ট্রাক্টর নিয়ে পাম্পে বসে আছেন। কখন তেল পাবেন তা জানেন না। তেল পেলেই মাঠে গিয়ে চাষ শুরু করবেন। এদিকে চাষিরাও মাঠে অপেক্ষা করছেন। সময়মতো জমি চাষ না হলে ফসল আবাদে দেরি হবে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেল নিতে আসা ট্রাক্টরচালক কাবীরুল ইসলাম বলেন, ‘ফজরের পরপরই পাম্পে এসেছি ট্রাক্টরে তেল নিতে। এখানে এসে নাশতা করেছি। এখন দুপুর হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো তেল পাইনি। আমাদের চাহিদা ৭০-৮০ লিটার হলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০-৩৫ লিটার। এভাবে তেল পেলে ঠিকমতো জমি চাষ করা সম্ভব হবে না। এতে চাষিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের উচিত দ্রুত চাষিদের কথা চিন্তা করে ট্রাক্টর ও সেচযন্ত্রে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা। অনেকের ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন রয়েছে। তাঁরাও দীর্ঘ সময় ধরে তেলের অপেক্ষায় আছেন। তেল নিতেই যদি পুরো দিন চলে যায়, তাহলে কাজ করব কখন?’
আরেক কৃষক মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইঞ্জিনচালিত একটি শ্যালো মেশিন রয়েছে। পাম্পে গিয়ে ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। তাই জমিতে সেচ দিতেও পারছি না। এভাবে তেল পেলে তো আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা চাষি মানুষ যদি চাষ না করতে পারি তাহলে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। যেকোনো মূল্যে চাষিদের তেল দেওয়ার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সরকারের।’
কৃষক মো. স্বপন আলী বলেন, ডিজেল না পাওয়ায় ট্রাক্টরচালকেরা জমি চাষ করতে পারছেন না। ইতিমধ্যে তাঁদের গম কাটা শেষ হয়েছে এবং নতুন ফসল আবাদ করতে হবে। কিন্তু শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্রের চালকেরাও সময়মতো তেল পাচ্ছেন না। এতে সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান বলেন, বর্তমানে মাঠে জমি চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে কৃষিযন্ত্রের জন্য ডিজেল কার্ড চালু করা হয়েছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও সেচপাম্পের মালিকদের মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে দুই দিনে অনেকের মাঝে ডিজেল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পাম্পমালিক ও ট্যাগ অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে গম কাটার সময় কম্বাইন হারভেস্টারের জন্যও ডিজেল কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। গাংনী উপজেলায় এ বছর ৭ হাজার ৮০ হেক্টর জমির গম কাটা শেষ হয়েছে।