হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

নদীতীর রক্ষায় খনন: ব্যক্তিগত জমির মাটির নিলাম চায় প্রশাসন

ফরিদপুর প্রতিনিধি

মধুমতী নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য খননের মাটি পাশে স্তূপ করে রেখেছে পাউবো। গতকাল মধুখালীর কামারখালী ইউনিয়নের গন্ধখালী এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের মধুখালীতে নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তীর সংরক্ষণকাজের জন্য স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছিলেন এলাকাবাসী। আরসিসি ব্লক দিয়ে নদীর তীর বাঁধাইয়ের জন্য ওই জমিতে খননকাজ করে পাউবো। কিন্তু নদীর জমির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জমির খনন করা মাটিও নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপিতে এলাকার ৪৯ জনের স্বাক্ষর রয়েছে। এ ছাড়া পাউবোর কর্মকর্তারাও উপজেলা প্রশাসনের এই নিলাম আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন।

পাউবো বলছে, পাউবো নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য যে প্রকল্প নেয়, তা বাস্তবায়নের জন্য কখনোই জমি অধিগ্রহণ করা হয় না। পাউবো নদী এবং তীরবর্তী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। জনগণ রাজি হয় নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে। পরে খনন করা উদ্বৃত্ত মাটি জমির মালিকেরা তাঁদের এলাকার উন্নয়নকাজে ব্যবহার করেন।

জানা গেছে, ফরিদপুরের মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতী নদীর তীর সংরক্ষণকাজ করছে পাউবোর জেলা কার্যালয়। নদীর জমির পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও ব্যবহার করা হয়েছে এই কাজে। এর মধ্যে মধুখালীর কামারখালী ইউনিয়নের গন্ধখালী এলাকায় পাউবোর উদ্যোগে (ছয় নম্বর প্যাকেজ) ৩৩০ মিটার অংশে মধুমতী নদীর তীর সংরক্ষণকাজ চলছে। ওই কাজের আওতাভুক্ত ব্যক্তিগত অনেকের জমি পড়েছে।

গত সোমবার এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে এলাকাবাসী স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, পাউবোর কাজের পরে ওই জমি থেকে উত্তোলিত মাটি জমির মালিকেরা ব্যক্তিগত খরচে এলাকার স্বার্থে বিভিন্ন মসজিদ, খানাখন্দ, রাস্তা সংস্কারের কাজ করছিলেন। তবে এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় জমির মালিকদের তাঁদের নিজস্ব জমির মাটি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, এলাকাবাসী মাটি ভরাটের জন্য ইউএনওর কাছে অনুমতি আনতে গেলে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি-এসি ল্যান্ড) কাছে পাঠান। এসি ল্যান্ড তদন্ত করার জন্য স্থানীয় তহশিলদারকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ইউএনও মৌখিকভাবে তাঁদের বলেছেন, ‘উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করা হবে।’

নওয়াব আলী নামের ওই এলাকার মসজিদ কমিটির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, ‘মানুষের জানাজার জন্য আমাদের বড় কোনো মাঠ নেই, তাই মসজিদের পুকুর ভরাট করার উদ্যোগ নেয় এলাকাবাসী। সেই লক্ষ্যে আমাদের জমি থেকে উত্তোলন করা মাটি আনতে গেলে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইউএনওর কাছে গেলেও নিলামে বিক্রি হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান বলেন, ‘এসব তথ্য সঠিক নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে ব্যক্তির জমি থেকে মাটি কাটা হলেও ওই মাটির মালিক সরকার। এ জন্য নিলাম করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিলাম ছাড়া ওই এলাকার কোনো মাটি অন্যত্র নেওয়া যাবে না।’

পাউবোর ফরিদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘পাউবো নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য যে প্রকল্প নেয়, তা বাস্তবায়নের জন্য কখনোই জমি অধিগ্রহণ করা হয় না। তাঁরা খননের উদ্বৃত্ত মাটি বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, স্কুল ও রাস্তায় দিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভাগীদার হয়।’

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি উপজেলা প্রশাসনের বিক্রির নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুরে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

ভারত সরকারকে নীতিমালা মেনে অবৈধ বাংলাদেশিদের পাঠানোর আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি নেতা

বিয়ের অনুষ্ঠানে টেবিলের নিচে মাংস জমা, কনেপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১০

ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তারের দাবি যুবদল নেতার

ফরিদপুরে মাদক কারবারের অভিযোগ তুলে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মায়ের লাশ দেখতে ছুটছিলেন, পথেই নিভে গেল মেয়ের জীবন

ফরিদপুরে নদ থেকে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর পাটখেতে মিলল যুবকের মরদেহ

১০ বছরের প্রবাসজীবনের পর বাড়ি ফেরা হলো না, বিয়ের আগেই নিভে গেল ৫ প্রাণ